ধর্মতলার শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো।

ধর্মতলার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছে বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’। বুধবার দুপুরে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মহম্মদ খালেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, মৃত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে চারজন কুষ্টিয়ার এবং একজন ঢাকার সাভারের বাসিন্দা।
‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদনে মৃতদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন কুষ্টিয়ার দেবাশিস দত্ত, স্বর্ণাশিস দত্ত, আফসানা শিম্মিন এবং মহম্মদ আকরাম আলি। স্বর্ণাশিসের বয়স মাত্র তিন বছর। মৃতদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকার সাভারের বাসিন্দা আহমেদ বাবুও।
জানা গিয়েছে, দেবাশিস দত্তের স্ত্রী শিম্মিন এবং তাঁদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশিসও এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখান থেকে মঙ্গলবারই কলকাতায় এসেছিলেন। রাতে ধর্মতলার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে উঠেছিলেন তাঁরা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শেষ হয়ে যায় তাঁদের জীবন।
মহম্মদ খালেদকে উদ্ধৃত করে ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে, বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের এক আধিকারিক স্থানীয় থানা এবং মর্গে গিয়ে মৃতদের পরিচয় যাচাই করেন। স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় পাঁচজনের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই তথ্য নিয়ে এখনও কলকাতা পুলিশের তরফে কোনও নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মহম্মদ খালেদও ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে মৃত পাঁচজনের পরিচয় সম্পর্কে প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেননি।
মঙ্গলবার রাতে নিউ মার্কেট থানা এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। দ্রুত গোটা হোটেল ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমবন্ধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়ে বেশ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মৃতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে দাবি প্রকাশ্যে এলেও কলকাতা পুলিশের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে। ফলে মৃতদের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে সরকারি ভাবে নিশ্চিত তথ্যই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।






