
- ভারতে উদ্বেগের মেঘ: তিব্বতের হ্রদ উপচে ও ভূমিকম্প-ধসের পর নেপালের ভোটেকোশী নদীতে সৃষ্ট ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে ভারতেও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
- বিহার ও উত্তরপ্রদেশে হাই অ্যালার্ট: নেপাল থেকে আসা গণ্ডক, কোশী ও ত্রিশূলী নদীর জল হু-হু করে বাড়ায় বিহার ও সীমান্তসংলগ্ন উত্তরপ্রদেশের জেলাগুলিতে চূড়ান্ত সতর্কতা বা হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
- অমিত শাহের আশ্বাস: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে কেন্দ্র থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
- ত্রাণ ও হেল্পলাইন: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবারই ভারতে থেকে ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া নিখোঁজ ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটকের সন্ধানে ভারতীয় দূতাবাস হেল্পলাইন চালু করেছে।
সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে দুর্যোগের শঙ্কা
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় উদ্ভূত হড়পা বানের জল দ্রুত নামতে শুরু করেছে নিচের অববাহিকার দিকে। নেপালের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর উপচে পড়া জল সোজাসুজি প্রবেশ করছে ভারতের গণ্ডক এবং কোশী নদীর জলপ্রণালীতে।
এর জেরে সীমান্ত পারের ভারতীয় জেলাগুলিতে হঠাৎ বন্যা ও ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এনডিআরএফ (NDRF) এবং এসডিআরএফ (SDRF)-এর একাধিক দল।
বিহার সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও কেন্দ্রের সহায়তা
| প্রশাসনিক বিষয় | গৃহীত পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা |
| ব্যারাজ নিয়ন্ত্রণ | পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভাল্মীকিনগর ব্যারাজের ৩৬টি গেটই খুলে রাখা হয়েছে। |
| হাই-লেভেল নজরদারি | মুখ্যসচিব ও ডিজিপির নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন ও মনিটরিং শুরু। |
| ঝুঁকিপূর্ণ জেলা | পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সীতামারহি ও মুজফফরপুরে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। |
| কেন্দ্রীয় সাহায্য | স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারকে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের ত্রাণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। |
[নেপালের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে জলস্ফীতি] ➔ [গণ্ডক ও কোশী নদী হয়ে বিহারে জলের প্রবেশ] ➔ [ভাল্মীকিনগর ব্যারাজের ৩৬টি গেট উন্মুক্ত] ➔ [বিহারে হাই অ্যালার্ট ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন]
ভারতীয় পর্যটকদের উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ
নেপাল পর্যটন বোর্ডের হিসেব অনুযায়ী, ধসে যাওয়া এলাকাগুলিতে প্রায় ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ। এর মধ্যে ১০৫ জনই ভারতীয় নাগরিক, যাঁদের মধ্যে অনেকে কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে আটকে পড়েন। কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস দ্রুত হেল্পলাইন নম্বর চালু করে আটকে পড়াদের উদ্ধারের কাজ সমন্বয় করছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ভারত থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও জরুরি খাদ্য-ওষুধ নিয়ে ত্রাণ সামগ্রী দ্রুত নেপালে পাঠানো হচ্ছে।






