নেপালের ভয়ংকর হড়পা বানে নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়, চিন্তায় ঘুম উড়েছে স্বামী শুভ্রাংশুর

- নিখোঁজ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়: ২১ আগস্ট কাঁচরাপাড়ার বাড়ি থেকে মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নেপালে হড়পা বানের কবলে পড়েছেন মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা।
- শুভ্রাংশুর আকুল উদ্বেগ: বুধবার সকালে স্ত্রীকে মানস সরোবরের পথে যাওয়ার শেষ ফোন করার পর থেকেই মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন, চরম চিন্তায় রায় পরিবার।
- কলকাতার ৩২ পর্যটকের দল: হাওড়া ও কাঁচড়াপাড়া থেকে একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যাওয়া ৩২ জন পর্যটকের এই দলটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
- প্রশাসনের হস্তক্ষেপ: কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস এবং ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন শুভ্রাংশু রায়।
মানস সরোবর যাত্রার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অঘটন
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মানস সরোবর ভ্রমণ ছিল শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের বহুদিনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নপূরণ করতেই গত ২১ আগস্ট হাওড়া থেকে কলকাতার একটি ট্রাভেল সংস্থার সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
বুধবার সকালে নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকা অবস্থায় শেষবার স্বামী শুভ্রাংশু রায়কে ফোন করেছিলেন শর্মিষ্ঠা। তিনি জানান, তাঁদের দল মানস সরোবরের পথে অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরই রসুয়া জেলায় লেন্দে ও ভোটেকোশি নদীর তাণ্ডবে ধস নেমে রাস্তাঘাট ও মোবাইল টাওয়ার ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর থেকে আর শর্মিষ্ঠা বা ওই দলের কারো সঙ্গেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিখোঁজ ও উদ্ধার প্রক্রিয়ার তথ্য
| বিষয়ের বিবরণ | তথ্য ও পরিস্থিতি |
| নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় | শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায় (প্রয়াত মুকুল রায়ের একমাত্র পুত্রবধূ ও শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী)। |
| যাত্রার তারিখ ও পথ | ২১ আগস্ট কাঁচড়াপাড়া থেকে রওনা; তিব্বত সীমান্ত হয়ে কৈলাস-মানস সরোবর রুট। |
| দলের মোট সদস্য | কলকাতার ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে যাওয়া ৩২ জন পর্যটক। |
| বর্তমান পদক্ষেপ | কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস ও ট্রাভেল এজেন্সির হেল্পলাইনের সাহায্যে সন্ধানের চেষ্টা। |
[মানস সরোবরের পথে রওনা] ➔ [বুধবার সকালে শেষ ফোন] ➔ [রসুয়ায় হড়পা বানের তোড় ও ধস] ➔ [নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন ও নিখোঁজ শর্মিষ্ঠা]
উদ্বেগে কাঁচড়াপাড়ার বাড়ি, সক্রিয় দূতাবাস
শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, “মানস সরোবর শর্মিষ্ঠার খুব পছন্দের জায়গা ছিল। ফোন না পাওয়ায় আমরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি।” পরিবারের তরফে ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস ও নেপালের স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সমস্ত তথ্য পাঠানো হয়েছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোর সেখানে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।






