Trishuli Flood: চিনা সুপারভাইজ়ারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ, সুড়ঙ্গে আটকে ২৬৫ শ্রমিক

নেপালের ত্রিশূলিতে ভয়াবহ হড়পা বান আছড়ে পড়ার সময় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাজ করছিলেন বহু শ্রমিক। আচমকা জলোস্রোতের বিকট শব্দ শুনে বিপদের আঁচ পেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু অভিযোগ, বেরিয়ে আসার অনুমতি না মেলায় সুড়ঙ্গের মধ্যেই আটকে থাকতে হয় তাঁদের। আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, অনুমতি না দেওয়া সেই চিনা সুপারভাইজ়ার নাকি শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা না করে নিজেই সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এই দাবি করেছেন ত্রিশূলির জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে বেঁচে ফেরা শ্রমিক রাজ ছেত্রী। তাঁর অভিযোগ, সময়মতো শ্রমিকদের বেরিয়ে আসতে দেওয়া হলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হত।
সুড়ঙ্গে ছিলেন ২৬৫ শ্রমিক
ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রিশূলি ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজের দায়িত্বে রয়েছে চিনের পাওয়ার চায়না কর্পোরেশন। রাজ ছেত্রীর দাবি, তিনি প্রকল্পের ৩ নম্বর সুড়ঙ্গে কাজ করছিলেন। সেখানে প্রায় ২৬৫ জন শ্রমিক ছিলেন।
রাজের বক্তব্য অনুযায়ী, হড়পা বান আছড়ে পড়ার পর সুড়ঙ্গের ভিতরেও জল ও কাদা ঢুকতে শুরু করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শ্রমিকরা চিনা সুপারভাইজ়ারের কাছে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার অনুমতি চান।
রাজের দাবি, সেই সময় সুপারভাইজ়ার তাঁদের অপেক্ষা করতে বলেন এবং পরিস্থিতি দেখতে যাওয়ার কথা জানান। এরপরই তিনি আর ফিরে আসেননি বলে অভিযোগ।
‘আমরা বেরোতে চেয়েছিলাম’
রাজের বর্ণনায়, সুড়ঙ্গের মধ্যে তখন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। প্রবল জল ও কাদার স্রোত ঢুকে পড়ায় বহু শ্রমিক ভেসে যান বলে তাঁর দাবি।
তাঁর অভিযোগ, সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও অনেক শ্রমিকের দেহ পড়ে থাকতে পারে। আবার অনেকে ধস ও জলের মধ্যে আটকে রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
রাজ বলেন, শেষ পর্যন্ত মাত্র চারজন শ্রমিক সেখান থেকে পালিয়ে বেরোতে সক্ষম হন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের এখনও কোনও খোঁজ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
জঙ্গলে গাছের তলায় কেটেছে রাত
সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে এলেও তাঁদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। রাজ জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক না থাকায় কয়েক দিন তাঁদের জঙ্গলের মধ্যেই থাকতে হয়েছিল।
গাছের নীচে ঘুমিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে মোবাইলে নেটওয়ার্ক ফিরে এলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন রাজ।
তাঁর কথায়, সেই কয়েক দিন তাঁরা কার্যত জানতেন না বাইরে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং তাঁদের উদ্ধারে কেউ আসছে কি না।
‘চিনের সরকারের কাছে খবর ছিল’
রাজ ছেত্রী আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, চিনা কর্তৃপক্ষের কাছে ধস ও হড়পা বানের খবর ছিল। কিন্তু সেই খবর শ্রমিকদের জানানো হয়নি।
তাঁর অভিযোগ, আগে থেকে বিপদের খবর জানানো হলে এবং সময়মতো শ্রমিকদের সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনা হলে এত প্রাণহানি হয়তো এড়ানো সম্ভব হত।
তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
উদ্ধারকাজ নিয়েও প্রশ্ন
শুধু রাজ ছেত্রী নন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রীও সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারকাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে।
তাঁর অভিযোগ, বিপর্যয়ের পর আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে যথেষ্ট তৎপরতা দেখানো হয়নি। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ত্রিশূলিতে হড়পা বানের ভয়াবহতা ইতিমধ্যেই গোটা নেপালকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তার মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কর্মরত শ্রমিকদের নিয়ে সামনে আসা এই অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আগাম বিপদের খবর কি সত্যিই ছিল? শ্রমিকদের কেন সময়মতো বেরিয়ে আসতে দেওয়া হল না? এবং সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে আদৌ কতটা চেষ্টা করা হয়েছিল?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর পেতে তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে নিখোঁজ ও মৃত শ্রমিকদের পরিবার।






