Camac Street Attack: অভিষেকের অফিসে হামলা, গ্রেপ্তার ৬; বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভিযোগ

ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের উত্তপ্ত কলকাতার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তর। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভোররাতে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। কালীঘাট তৃণমূলের দাবি, বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী ভোররাতে অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বিজেপির দুষ্কৃতীরা অফিসে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে বিজেপি। বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয় এবং গোটা ঘটনাই সাজানো।
অভিষেকের অভিযোগ, ‘আইনের শাসনের উপর নগ্ন আক্রমণ’
ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, ক্যামাক স্ট্রিটে যা ঘটেছে, তা আইনের শাসনের উপর ‘লজ্জাজনক এবং নগ্ন আক্রমণ’।
অভিষেকের দাবি, ভোর প্রায় সাড়ে ৪টে নাগাদ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বিজেপির দুষ্কৃতীরা কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে জোর করে ঢুকে পড়ে। তাঁর অভিযোগ, কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং অফিসের আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই বিষয়েও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
‘বিজেপির কেউ যুক্ত নয়’, পাল্টা দাবি সজল ঘোষের
অভিষেকের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও নেতা বা কর্মী যুক্ত নন।
সজল ঘোষের বক্তব্য, “দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। প্রচারের আলোয় থাকার জন্যেই নিজেরাই এই সব করছে। সবটাই সাজানো।”
এমনকী ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ তৃণমূলের কর্মীরা কেন অফিসে ছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, এই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
‘পরিকল্পিত হামলা’, দাবি তৃণমূলের
অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূলের দাবি, গোটা ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। দলের এক নেতার বক্তব্য, বুধবারই কাজের জন্য দিল্লি গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অনুপস্থিতির খবর পাওয়ার পরই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
তবে এই দাবিরও পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। ফলে হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার ৬
ঘটনায় ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আগেও বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস
গত কয়েকদিন ধরেই সংবাদ শিরোনামে রয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তর। গত বৃহস্পতিবার ওই অফিসে তৃণমূলের বোর্ড খুলতে গিয়েছিলেন পুর আধিকারিকরা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।
সরকারি কাজে আধিকারিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। সেই মামলায় অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
এরপর সোমবার ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিসে যায় দমকল ও পুলিশ। ভবন নির্মাণের সময় জমা দেওয়া পরিকল্পনার বাইরে কোনও ‘অবৈধ’ নির্মাণ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা। পাশাপাশি ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবনের দুই তলা জোর করে আটকে অফিস তৈরি করার অভিযোগও তুলেছেন বাড়ির মালিক। যদিও সেই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তদন্ত চলছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একদিকে তৃণমূলের অভিযোগের তির বিজেপির দিকে, অন্যদিকে বিজেপি গোটা ঘটনাকেই ‘সাজানো’ বলে দাবি করছে। এখন তদন্তে হামলার প্রকৃত কারণ এবং নেপথ্যে কারা ছিল, সেটাই দেখার।






