জয়পুরে আপ নেতাদের স্কুলে ঢোকায় বাধা: স্থানীয় ও বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আম আদমি পার্টির!

দেশজুড়ে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার মান খতিয়ে দেখতে আম আদমি পার্টির (AAP) চালানো প্রচার অভিযানের অংশ হিসেবে জয়পুরের একটি সরকারি স্কুলে পরিদর্শন করতে যান আপের প্রতিনিধি দল। তবে সেখানে পৌঁছানো মাত্রই চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশ এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত আপ প্রতিনিধিদের গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
রামপুরা-কানওয়ার গ্রামের ঘটনা ও বচসা
শুক্রবার জয়পুরের রামপুরা-কানওয়ার গ্রামের একটি প্রাথমিক স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল আপের সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রাঙ্কাসহ অন্যান্য কর্মীদের।
- বাধার মুখে আপ: আপ কর্মীরা স্কুলে গিয়ে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ আপত্তি জানান এবং তাদের ফিরে যেতে বলেন।
- আপের যুক্তি: আপ নেতাদের দাবি ছিল, তাঁরা গোয়ালঘরের মতো অবস্থায় চলা ওই স্কুলের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করতে এসেছেন।
- গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা: বচসা বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত আপ কর্মীদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
[ঘটনাপ্রবাহ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া]
রাজস্থানের স্কুলে আপ (AAP) নেতাদের পরিদর্শন কর্মসূচি
└── জয়পুরের রামপুরা-কানওয়ার স্কুলে স্থানীয় ও বিরোধী কর্মীদের বাধা
├── আপ নেতা আশুতোষের অভিযোগ: "বিজেপির লোকজনকে এনে হামলা চালানো হয়েছে"
└── বিরোধী দলনেতা তিকারাম জুলির নিন্দা ও পুলিশি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ও স্থানীয়দের বক্তব্য
ঘটনার পরই সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন আপ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও দলের অন্যান্য নেতৃত্ব।
| পক্ষ | বক্তব্য / অবস্থান |
| আশুতোষ রাঙ্কা (AAP) | “যেখানে বাচ্চাদের গোয়ালঘরে পড়ানো হচ্ছে, তা দেখতে যাওয়ার কারণেই গণ্ডগোল ছড়ানো হয়েছে। স্থানীয়রা নন, বিজেপির অনুগামীরাই ঝামেলা করেছে।” |
| স্থানীয় বাসিন্দারা | তাঁরা ভেবেছিলেন বহিরাগতরা এসে ২০-২৫ জন পড়ুয়ার এই ছোট স্কুলটি ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত করছে, সেই আতঙ্ক থেকেই বাধা দেওয়া হয়। |
| তিকারাম জুলি (কংগ্রেস) | রাজস্থানের বিরোধী দলনেতা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। |
রাজস্থান সরকারের নির্দেশিকা
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আম আদমি পার্টি রাজস্থানের বিভিন্ন সরকারি স্কুল পরিদর্শনের কথা ঘোষণা করার পরই নড়েচড়ে বসে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। রাজস্থান সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানানো হয় যে, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোনো বহিরাগত ব্যক্তি স্কুল চত্বরে ঢুকতে পারবেন না। এই নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার স্কুলে যান আপ কর্মীরা, যা পরবর্তীতে এই সংঘাতের রূপ নেয়।
সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে রাজস্থানে শুরু হওয়া রাজনৈতিক লড়াই এবার সরাসরি হাতাহাতি ও সংঘাতের রূপ নিয়েছে। রাজস্থান সরকারের কড়া নির্দেশিকা এবং বিরোধী দলগুলির পাল্টা আক্রমণের মাঝে শিক্ষার মান উন্নত করার এই লড়াই কত দূর গড়ায়, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।






