ইউজিসি নেট বিতর্মে এআই-এর ব্যবহার! ৩টি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিলের পর নতুন সূচি প্রকাশ এনটিএ-র

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-জাতীয় যোগ্যতা পরীক্ষা বা ইউজিসি নেট (UGC NET) ঘিরে তৈরি হলো বড়সড় বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, প্রশ্নপত্র তৈরি এবং অনুবাদের কাজে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই গোলমালের জেরেই তড়িঘড়ি ইংরেজি, কমার্স এবং সোশিওলজির মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা বা NTA।
এআই ব্যবহারের বিস্ফোরক অভিযোগ ও প্রশ্নপত্রের ত্রুটি
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, এনটিএ প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ও অনুবাদের সময় সরাসরি এআই ব্যবহার করেছিল।
- সমাজবিজ্ঞান (Sociology): বিশ্বখ্যাত বহু সমাজবিজ্ঞানীর নামের বানান ও তথ্য ভুল দেখা গেছে প্রশ্নপত্রে।
- ইংরেজি ও কমার্স: অধিকাংশ প্রশ্নই গত বছরের প্রশ্নপত্র থেকে হুবহু তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে প্রশ্ন তৈরির ইঙ্গিত দেয়।
- উত্তরপত্র প্রকাশে বিলম্ব: শিক্ষা মন্ত্রক এনটিএ কর্তাদের তলব করে উত্তরপত্র প্রকাশ না করার কারণ জানতে চাইলে তাঁরা কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি বলে সূত্রে খবর।
[ইউজিসি নেট বিতর্ক ও পুনরায় পরীক্ষার ধারা]
২২ জুন - ৩০ জুন: নেট পরীক্ষা গ্রহণ
└── প্রশ্নপত্রে মারাত্মক ভুল ও AI ব্যবহারের অভিযোগ
└── ইংরেজি, কমার্স ও সোশিওলজি— ৩টি পেপার বাতিল ঘোষণা
└── সেপ্টেম্বরের ৯ ও ১০ তারিখে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত
এনটিএ-র বক্তব্য ও নতুন পরীক্ষার সময়সূচি
যদিও এনটিএ (NTA)-র অধিকর্তা অভিষেক সিং এআই ব্যবহারের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “মানব-চোখে খতিয়ে দেখার পরেই কিছু ভুলত্রুটি সামনে আসে, তাই বিতর্ক এড়াতে পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।”
বিতর্কিত ৩টি বিষয়ের নতুন পরীক্ষার সূচি নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | পরীক্ষার তারিখ | সময়সূচি |
| ইংরেজি (English) | ৯ সেপ্টেম্বর | সকাল ৯:০০ টা – দুপুর ১২:০০ টা |
| কমার্স (Commerce) | ৯ সেপ্টেম্বর | দুপুর ৩:০০ টে – সন্ধ্যা ৬:০০ টা |
| সমাজবিজ্ঞান (Sociology) | ১০ সেপ্টেম্বর | সকাল ৯:০০ টা – দুপুর ১২:০০ টা |
৮৪টি বিষয়ের ফলাফলে প্রভাব পড়বে কি?
এনটিএ-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই তিনটি পেপার বাতিল হলেও বাকি ৮৪টি বিষয়ের ফলাফলের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই সম্পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তবে প্রশ্নপত্র তৈরিতে এআই-এর অবাধ ব্যবহার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদ ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রস্তুতিতে প্রযুক্তি নির্ভরতার নামে এমন গাফিলতি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। পুনরায় হতে চলা এই তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা কতটা স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়, সেদিকেই নজর দেশের শিক্ষামহলের।






