ইন্দোনেশিয়ায় একের পর এক বিপর্যয়: শনিবারের রিখটার স্কেলে ৭.৭-এর পর সোমবারে ফের ৫.৯ মাত্রার জোরালো ভূমিকম্প, মৃত বেড়ে ৫৩

প্রাকৃতিক দুর্যোগের নারকীয় অভিঘাত থেকে যেন নিস্তার পাচ্ছে না ইন্দোনেশিয়া। গত শনিবারে ৭.৭ মাত্রার অতি-শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষত শুকানোর আগেই সোমবার ভোরে নতুন করে কেঁপে উঠল দেশটি। জার্মানির রিসার্চ সেন্টার সূত্রের খবর, সোমবারের ভূকম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চল এবং রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫.৯। পর পর দু’দিনের এই কম্পনে মৃত্যুমিছিলের পাশাপাশি গৃহহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
শনিবারের তাণ্ডব ও সোমবারের নতুন আঘাত
শনিবার সকালে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ফ্লোরেস প্রদেশের ৬টি জেলায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা ঘটে। সেই আতঙ্কের আমেজ কাটতে না কাটতেই সোমবার ভোরে নতুন করে আফটারশক বা পৃথক কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়।
জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকার্য চলাইকালীন নতুন করে মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩-তে পৌঁছেছে। মাঙ্গারাই (Manggarai), পূর্ব মাঙ্গারাই এবং নাগেকিও (Nagekeo)—এই তিনটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
[ঘটনার গতিপ্রকৃতি ও পরিসংখ্যান]
১. শনিবার: রিখটার স্কেলে ৭.৭ মাত্রার অতি-শক্তিশালী ভূমিকম্প।
২. সোমবার ভোর: ফ্লোরেস অঞ্চলে ৫.৯ মাত্রার নতুন আফটারশক বা ভূকম্পন।
৩. নিহতের সংখ্যা: উদ্ধারকাজের পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩।
৪. বাস্তুচ্যুত: প্রায় ৫,০০০ মানুষ বর্তমানে ত্রাণ বা আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।
উদ্ধারকাজে প্রধান অন্তরায় ভূমিধস ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা
সিক্কা জেলার রাজধানী মাউমেরে-তে অবস্থিত উদ্ধারকারী দলের প্রধান ফাতুর রহমান জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দলগুলো একটানা কাজ করে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে।
উদ্ধারকারী প্রধান ফাতুর রহমানের বক্তব্য:
“আমরা অধিকাংশ ভূমিধস পরিষ্কার করেছি এবং আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া গ্রামগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু করেছি। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণে অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রচণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।”
গৃহহীন হাজার হাজার বাসিন্দা
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ফ্লোরেস অঞ্চলেই অন্তত ২৪১টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সামগ্রিকভাবে পূর্ব নুসা টেঙ্গারা জুড়ে ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক।
| ভূমিকম্প ও ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান | বিবরণ / সংখ্যা |
| নতুন কম্পনের মাত্রা (সোমবার) | রিখটার স্কেলে ৫.৯ |
| মূল কম্পনের মাত্রা (শনিবার) | রিখটার স্কেলে ৭.৭ |
| মোট মৃতের সংখ্যা | ৫৩ জন |
| সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি | ৯০০টিরও বেশি |
| আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি | ৪৫০টি |
| আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া বাসিন্দা | প্রায় ৫,০০০ জন |
ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপবেষ্টিত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভূমিকম্প পরবর্তী ভূমিধস ও পর পর আফটারশক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ চাপা পড়ে আছে কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলির প্রাথমিক লক্ষ্য।






