Chanchal Hospital Negligence: নার্স বসা চেয়ারে, স্যালাইনের চ্যানেল খুলতে গিয়ে আড়াই মাসের শিশুর আঙুল কেটে দিল ওয়ার্ড বয়! চাঁচল সুপার স্পেশালিটিতে তুমুল উত্তেজনা

source : সংবাদ প্রতিদিন
রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির চিকিৎসা পরিষেবা এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। নার্স নিজের আসনে বসে গল্প করছেন বা বিশ্রাম নিচ্ছেন, আর তাঁর পরিবর্তে চিকিৎসার টেকনিক্যাল কাজ করছেন একজন ওয়ার্ড বয়! এমনই এক হাড়হিম করা ও উদ্বেগজনক গাফিলতির সাক্ষী থাকল মালদহের চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল (Chanchal Super Speciality Hospital)। স্যালাইনের চ্যানেল খুলতে গিয়ে কাঁচির টানে আড়াই মাসের এক নিষ্পাপ শিশুর হাতের আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগ উঠল এক ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৬ জুন মাত্র আড়াই মাস বয়সের ওই কন্যাসন্তানটি অসুস্থ হয়ে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চার দিন চিকিৎসার পর শিশুটি সুস্থ হওয়ায় আজ, মঙ্গলবার সকালে তাকে ছুটি (Discharge) দেওয়ার কথা ছিল। বাড়ি ফেরার আনন্দেই ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
ছুটি হওয়ার আগে নিয়মমাফিক শিশুর হাতে থাকা স্যালাইনের চ্যানেলটি খোলার প্রয়োজন ছিল। অভিযোগ, সেই সময় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ডিউটি সিস্টার বা নার্স নিজের চেয়ারে বসেছিলেন। তিনি নিজে সেই কাজ না করে, স্যালাইন চ্যানেল খোলার জন্য ডেকে নেন হাসপাতালেরই এক ওয়ার্ড বয়কে। চিকিৎসা পরিভাষায় যা অত্যন্ত বেআইনি।
চ্যানেলটি খোলার জন্য ওই ওয়ার্ড বয় একটি কাঁচি ব্যবহার করছিলেন। শিশুটি ছোট হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই হাত নাড়াচাড়া করছিল। তখনই ওই ওয়ার্ড বয়ের চরম অসাবধানতায় কাঁচির ধারাল ফলার কোপ গিয়ে পড়ে শিশুর বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলে (Thumb)। মুহূর্তের মধ্যে আঙুলটি কেটে গিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটতে শুরু করে। যন্ত্রণায় চিৎকার করে কেঁদে ওঠে আড়াই মাসের ওই একরত্তি।
রক্তপাত শুরু হতেই ওয়ার্ডে উপস্থিত অন্য কর্মীরা ছুটে আসেন এবং দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা করে কোনও রকমে শিশুর রক্ত বন্ধ করা হয়। এই খবর ওয়ার্ডের বাইরে থাকা শিশুর বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছতেই তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
ঘটনার পরেই সরকারি হাসপাতালের এই চূড়ান্ত অপেশাদার আচরণ ও গাফিলতির বিরুদ্ধে সরব হয় শিশুর পরিবার। নার্স উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন একজন অদক্ষ ওয়ার্ড বয় এই ধরনের সংবেদনশীল কাজ করতে গেলেন, তা নিয়ে কর্তব্যরত নার্সকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান রোগীর আত্মীয়রা।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়ে শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁচল থানা (Chanchal Police Station) এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
সমগ্র ঘটনায় চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে গভীর দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। নার্স কেন নিজের দায়িত্ব পালন করেননি এবং ওয়ার্ড বয় কোন অধিকারে স্যালাইনের চ্যানেল হাত দিতে গেলেন, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় তদন্তের (Departmental Inquiry) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নামে এই ধরণের গাফিলতি এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার টেকনিশিয়ান বা নার্সের কাজ চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীদের দিয়ে করানোর অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন গ্রামীণ ও মহকুমা হাসপাতালে। চাঁচলের এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল যে, নজরদারির অভাবে কীভাবে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিশুদের জীবন নিয়ে খেলা করা হচ্ছে। দোষী কর্মীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো অসম্ভব।






