খাগড়াগড়ের ১২ বছর পর ফের বর্ধমানে জঙ্গি ডেরা! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করা কাশ্মীরি গ্যাংয়ের সদস্য হামিদ গ্রেপ্তার

রাজ্য রাজনীতি ও সুরক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় তোলপাড়! ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক খাগড়াগড় বিস্ফোরণের রেশ কাটার আগেই, ঠিক ১২ বছরের মাথায় সেই খাগড়াগড় থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরের এক অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে হাতেনাতে ধরা পড়ল জঙ্গি নেটওয়ার্কের এক সদস্য। বেঙ্গল এসটিএফ (Bengal STF)-এর পাতা জালে বন্দি হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিদ মণ্ডল। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক মারাত্মক তথ্য— ধৃত হামিদের মূল নিশানা ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!
দর্জি থেকে সন্ত্রাসবাদী: কে এই হামিদ মণ্ডল?
হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিদ মণ্ডল বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করত।
- পেশা: হাওড়ার একটি গেঞ্জি কারখানায় দর্জির কাজ করত সে। তার বাবাও ওই একই কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
- ছদ্মবেশ: সম্প্রতি পরিবার (স্ত্রী ও তিন সন্তান) নিয়ে বর্ধমানের এক অভিজাত আবাসনে একতা মেহেরা নামে এক ব্যক্তির ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতে শুরু করে। প্রতিবেশীদের সে নিজেকে হাওড়ার ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিত।
- আচরণ: আবাসনের বাসিন্দা শাশ্বতী গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, “হামিদকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না। অত্যন্ত সাধারণ ও ভদ্র ব্যবহার করত।”
[হামিদ মণ্ডলের কার্যকলাপের টাইমলাইন]
* পিলখানা (হাওড়া): দর্জির কাজ ও কট্টরপন্থী চিন্তাধারায় প্রভাবিত হওয়া।
* নিউটাউন (কলকাতা): মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি ভাড়া নেওয়া ও যাতায়াতের পথে রেকি।
* বর্ধমান অভিজাত আবাসন: নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর আস্তানা বদল ও মগজধোলাই চক্র পরিচালনা।
* বৃহস্পতিবার: বেঙ্গল এসটিএফের অভিযানে মোবাইলসহ গ্রেপ্তার।
মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের রাস্তায় রেকি!
তদন্তকারী সূত্রের খবর, নির্বাচনের আগে এবং পরেই ছক কষে পা বাড়াচ্ছিল হামিদ। কিছুদিন আগে সে কলকাতার নিউটাউনে একটি বাড়ি ভাড়া নেয়। কাকতালীয়ভাবে সেই ভাড়াবাড়ির খুব কাছেই থাকেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
যে নির্দিষ্ট পথ ধরে মুখ্যমন্ত্রী নিত্যদিন যাতায়াত করতেন, সেই পথে নিয়মিত নজরদারি ও রেকি (Reconnaissance) চালায় হামিদ। পরবর্তীতে ভোটের ফল ঘোষণার পরেই কৌশল বদলে চটজলদি আস্তানা গুটিয়ে বর্ধমানের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে ভাড়াটে হিসেবে গিয়ে ওঠে সে।
কাশ্মীরের ‘সাজ্জাদ ভাট’ লিঙ্ক ও মগজধোলাইয়ের জাল
বৃহস্পতিবার এসটিএফ-এর বিশেষ দল হানা দিয়ে হামিদকে গ্রেপ্তার করে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি।
তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিদ কাশ্মীরের কুখ্যাত ‘সাজ্জাদ ভাট’ (Sajjad Bhat) গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য ছিল। পূর্ব ভারতে এই গোষ্ঠীর হয়ে নতুন সদস্য রিক্রুট করা ও তরুণদের মগজধোলাই করার মূল দায়িত্ব ছিল হামিদের ওপর। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মূলত খেটে খাওয়া শ্রেণি যেমন— বিরিয়ানি ব্যবসায়ী, সবজি বিক্রেতা ও দরিদ্র যুবকদের টার্গেট করত সে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং রাজস্থানে ছড়িয়ে রয়েছে এই গ্যাংয়ের জাল।
এক নজরে বর্ধমান জঙ্গি ডেরা ও হামিদ কাণ্ড:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| ধৃত ব্যক্তির নাম | হামিদ মণ্ডল (মূল বাসিন্দা: পিলখানা, হাওড়া) |
| জঙ্গি গোষ্ঠী লিঙ্ক | সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠী (কাশ্মীর) |
| গ্রেপ্তারকারী সংস্থা | বেঙ্গল এসটিএফ (Bengal STF) |
| প্রধান নিশানা | মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (নিউটাউনে রেকি পরিচালনা) |
| অপারেটিং এরিয়া | উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান ও পশ্চিমবঙ্গ |
১২ বছর আগের খাগড়াগড় স্মৃতি উসকে দিয়ে বর্ধমানে সন্ত্রাসবাদী ডেরার সন্ধান ফের একবার রাজ্যের সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে কাঠগড়ায় তুলে দিল। অতি সাধারণ পেশার আড়ালে লুকিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানার এই চাঞ্চল্যকর চক্রান্তের নেপথ্যে আর কোন বড় মাথার হাত রয়েছে, তা বের করতে মরিয়া রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ।






