“আগে প্রশ্ন তুলতাম, এখন সমাধান করি!” নিট ও প্রশ্নফাঁসে কেন চুপ ছিলেন? ট্রোল-কটাক্ষের জবাবে অবশেষে মুখ খুললেন বিজেপি সাংসদ রাঘব চাড্ডা

একসময় ছিলেন আম আদমি পার্টির (AAP) জাতীয় পোস্টার বয়। টেলিকম সংস্থাগুলির ২৮ দিনের প্ল্যান বানিয়ে ১২ মাসে ১৩ বার রিচার্জ করানোর আর্থিক প্রতারণা থেকে শুরু করে গিগ ওয়ার্কারদের অধিকার বা পিতৃত্বকালীন ছুটির মতো আমজনতার একাধিক ইস্যুতে সংসদে নিয়মিত সরব হতেন তিনি। কিন্তু সেই রাঘব চাড্ডাই পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলা নিট (NEET) ও প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন ‘স্পীকটি নোট’?
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেদার মিম আর বিরোধীদের লাগাতার তোপের পর অবশেষে রাজ্যসভায় নিজের নীরবতার আসল কারণ ব্যাখ্যা করলেন বিজেপি সাংসদ রাঘব চাড্ডা।
“বিরোধী ছিলাম প্রশ্ন তুলতাম, এখন ট্রেজারি বেঞ্চের দায়িত্ব সমাধান করা”
শুক্রবার রাজ্যসভায় প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল ‘পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪ সংশোধনী’ বিলের ওপর আলোচনার সময় দাঁড়ান রাঘব চাড্ডা। বিজেপি সাংসদ হিসেবে সংসদে এটাই ছিল তাঁর প্রথম ভাষণ।
নিজের নীরবতা ও অবস্থান বদলে জনগণের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রাঘব বলেন—
“অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন আমি কেন চুপ ছিলাম। আজ তার উত্তর দিচ্ছি। আগে আমি বিরোধী দলের সাংসদ ছিলাম। বিরোধী হিসেবে আমার কাজ ছিল সমস্যা নিয়ে আওয়াজ তোলা ও প্রশ্ন করা, আমি নিষ্ঠার সঙ্গে সেটাই করেছি। কিন্তু আজ আমি ট্রেজারি বেঞ্চে (শাসক দল) বসি। এখন আমার কাজ শুধু প্রশ্ন তোলা নয়, সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা। নিজেকে কথা দিয়েছিলাম, যেদিন সমাধান সামনে আনতে পারব, সেদিনই মুখ খুলব। আজ সেই দিন এসেছে।”
[রাঘব চাড্ডার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ও কারণ]
* অতীতে (AAP সাংসদ): গিগ কর্মী, রিচার্জ কেলেঙ্কারি ও পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে প্রশ্ন উপস্থাপন।
* বর্তমান (BJP সাংসদ): সরকারি বেঞ্চে বসে সরাসরি বিল ও আইনি সমাধানের অংশ হওয়া।
* নীরবতার কারণ: সমস্যার বাস্তবিক সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত ভাষণ না দেওয়ার ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞা।
সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোল ও গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান পদ
আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাঘব চাড্ডাকে ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়েছিল। একদিকে যেমন তাঁকে রাজ্যসভার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির শীর্ষ পদে বসানো হয়, অন্যদিকে ‘আম আদমি’-র ইমেজ ছেড়ে পদ্ম শিবিরে নাম লেখানোয় নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভ ও কটাক্ষের শিকার হন তিনি।
এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে যখন প্রশ্নফাঁসকে ‘ঘোর পাপ’ বলে তোপ দেগেছিলেন, তখনও রাঘবের নিশ্চুপ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁর সাবেক সহকর্মীরা। তবে আজকের বক্তব্যের মাধ্যমে সেই সমস্ত ট্রোল ও আক্রমণের রাজনৈতিক উত্তর এক জোটে দিয়ে দিলেন রাঘব।
প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রের কড়া বিলের প্রশংসা
নিজের ভাষণে কেন্দ্র সরকারের আনা পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্টের প্রশংসা করে রাঘব জানান, দেশের কোটি কোটি সৎ ও মেধাবী পরীক্ষার্থীর স্বপ্ন রক্ষা করতে এই সংশোধনী আনা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কড়া শাস্তির বিধান এনেই কেবল প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ সিন্ডিকেটকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
এক নজরে রাঘব চাড্ডার সফর ও বিতর্ক:
| ক্ষেত্র | বিরোধী সাংসদ হিসেবে (AAP) | শাসক সাংসদ হিসেবে (BJP) |
| মূল ভূমিকা | প্রশ্ন তোলা ও সরকারের নীতি সমালোচনা | সমস্যার আইনি ও প্রশাসনিক সমাধান খুঁজে বের করা |
| চর্চিত বিষয়াবলি | ২৮ দিনের মোবাইল রিচার্জ প্ল্যান, গিগ কর্মী সুরক্ষা | পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রশ্নফাঁস বিরোধী) বিল সমর্থন |
| বক্তব্যের মূল সুর | আমজনতার ক্ষোভ তুলে ধরা | সরকারের নীতি ও পদক্ষেপের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা |
সংসদে রাঘব চাড্ডার এই বক্তব্য নিশ্চিতভাবেই এক বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ। বিরোধী থেকে শাসক দলের টেবিলে বসার পর জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্ব কীভাবে পরিবর্তিত হয়, রাজ্যসভায় রাঘবের ভাষণ সেই রাজনৈতিক বাস্তবতাকেই পুনরায় চিহ্নিত করল।






