কংগ্রেস সদর দপ্তরে ‘বন্দে মাতরম’ থামানোর অভিযোগ! রাহুল-সোনিয়াকে তোপ বিজেপির, জবাব জয়রামের

স্বাধীনতা দিবসের দিনে নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুরু হলো তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময় তা মাঝপথে থামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ময়দানে নেমেছে বিজেপি, যদিও সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে হাত শিবির।
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ঠিক কী ঘটেছে?
১৮ আকবর রোডে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। পতাক উত্তোলনের পর কয়েকজন তরুণী ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে শুরু করেন।
ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গান চলার মাঝপথেই সোনিয়া গান্ধী কিছু অঙ্গভঙ্গি করেন, যা দেখে মনে হচ্ছে তিনি কর্মীদের গান থামানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এর পরপরই রাহুল গান্ধীത്തിকেও একই ধরনের হাত নেড়ে ইশারা করতে দেখা যায়। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় স্তোত্রকে অসম্মান করার অভিযোগ তুলে সরব হয় বিজেপি।
[বিতর্কের মূল ক্রমপর্যায়]
১. স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তরুণীদের 'বন্দে মাতরম' পরিবেশন।
২. সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীর গান থামানোর হাতছানি/ইঙ্গিত।
৩. অমিত মালব্যের তোপ: জাতীয় স্তোত্র নিয়ে অসন্তোষের অভিযোগ।
৪. জয়রাম রমেশের জবাব: ১৯৩৭ সালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ।
বিজেপির তীব্র আক্রমণ
সমাজমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে তোপ দাগেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তাঁর অভিযোগ:
- জাতীয় গান পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধীকে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট দেখাচ্ছিল।
- জাতীয় স্তোত্রের শুরুর মাত্র কয়েকটি স্তবক গাওয়ার পরই রাহুল গান্ধী হাত নেড়ে তা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
- কংগ্রেস নেতৃত্ব বারবার জাতীয় প্রতীকের প্রতি অনাদর প্রদর্শন করছে।
প্রথা ও ইতিহাস তুলে ধরে কংগ্রেসের পাল্টা জবাব
বিতর্ক মাত্রা পেতেই কংগ্রেসের পক্ষে মুখ খোলেন বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ। সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে তিনি স্পষ্ট জানান, এর পেছনে কোনো বিতর্ক নেই, বরং এটি একটি প্রায় শতবর্ষ পুরোনো প্রথা।
| ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট | সিদ্ধান্ত ও তাৎপর্য |
| সালের উল্লেখ | ১৯৩৭ সালের অক্টোবর মাস |
| উপস্থিত নেতৃত্ব | মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মৌলানা আজাদ, সি. রাজাগোপালাচারী, জওহরলাল নেহেরু |
| পরামর্শদাতা | কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| সিদ্ধান্ত | দলীয় বা প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে জাতীয় স্তোত্রের (বন্দে মাতরম) কেবল প্রথম স্তবকটিই গাওয়া হবে |
জয়রাম রমেশ জানান, ১৯৩৭ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কংগ্রেস এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত মেনেই ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথমাংশ পরিবেশন করে আসছে। সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা পূর্ণ হতেই গান সমাপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এর মধ্যে কোনো অসম্মানের বিষয় নেই।
স্বাধীনতা দিবসের উৎসবের আবহেই জাতীয় স্তোত্রকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাক্যবাণ তুঙ্গে উঠেছে। একদিকে বিজেপি যেখানে একে ‘জাতীয় স্তোত্রের অবমাননা’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে কংগ্রেস তাদের শতবর্ষ পুরোনো দলীয় ঐতিহ্য ও রবি ঠাকুরের পরামর্শের দোহাই দিয়ে বিতর্ক এড়াতে চাইছে।






