
গাড়ির জ্বালানিতে ইথানলের ব্যবহার বাড়িয়ে দূষণ কমানো ও অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানোর পরিকল্পনা সরকারের। কিন্তু E20 পেট্রল বিক্রি চালু করতে গিয়ে এবার নতুন বিপাকে কেন্দ্র। ইথানল তৈরির জন্য আখের চাহিদা হু-হু করে বাড়ায় চিনি কলগুলিতে আখের আকাল দেখা দিয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারদরে—দেশজুড়ে রেকর্ড হারে বাড়ছে চিনির দাম, যা আমজনতার পকেটে টান ফেলছে।
ইথানল তৈরি বনাম চিনি উৎপাদন
অনিয়মিত বর্ষার কারণে চলতি বছরে আখের সামগ্রিক ফলন কিছুটা কম হয়েছিল। এর ওপর ইথানল উৎপাদনের হার বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের কারণে নতুন তৈরি হওয়া কারখানাগুলি আখের রস কেনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
[চিনি সংকটের পরোক্ষ কারণ]
E20 পেট্রলের জন্য ইথানল তৈরির লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি
└── ইথানল কারখানায় প্রায় ৩০-৩৫% আখের রসের প্রয়োজন
└── কৃষকদের থেকে বেশি দামে ইথানল কারখানাগুলির আখ ক্রয়
└── চিনি মিলগুলিতে আখের জোগান ও উৎপাদন হ্রাস ──► খোলাবাজারে চিনির মূল্যবৃদ্ধি
দেশের পাইকারি ও খুচরো বাজারের বর্তমান অবস্থা
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৃহত্তম চিনি হাব হিসেবে পরিচিত মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে পাইকারি দর সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে উঁচুতে পৌঁছেছে।
| বাজারের ধরন | স্থান/অঞ্চল | বর্তমান চিনির দর (টাকা) |
| পাইকারি হাব (কুইন্টাল) | কোলহাপুর, মহারাষ্ট্র | ₹ ৫,৪০০ / কুইন্টাল (রেকর্ড উচ্চতা) |
| জাতীয় গড় পাইকারি দর | সমগ্র ভারত | ₹ ৫২.৩০ / কেজি |
| খোলাবাজার (খুচরো দর) | বিভিন্ন শহর | ₹ ৫৮.০০ – ₹ ৬৫.০০ / কেজি |
বিশ্ববাজারে প্রভাব ও সরকারি অবস্থান
বিশ্বের মোট চিনির চাহিদার প্রায় ৮ থেকে ১২ শতাংশ একাই মেটায় ভারত। তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট দেখা দেওয়ায় ও মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইতিমধ্যে চিনি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। ফলে বিশ্ববাজারের চিনি সরবরাহেও এই সংকটের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানির তাগিদে ইথানল উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান খাদ্যপণ্য চিনির জোগানে এই টান অর্থনীতিবিদদের চিন্তায় ফেলেছে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ইথানল তৈরিতে আখের ব্যবহারের ওপর কোনো সাময়িক বিধিনিষেধ আনে কি না, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।






