রিয়া তালুকদার খুন: স্ত্রীকে খুনের পর ‘সুগার ড্যাডি’কে হুমকি স্বামীর

গুয়াহাটিতে ২৫ বছরের রিয়া তালুকদারকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্ত্রীকে খুন করে তাঁর মাথা ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী রামানুজ গোস্বামীর বিরুদ্ধে। রবিবার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সামনে অভিযুক্ত দাবি করেন, স্ত্রীকে তিনি খুন করেছেন। শুধু তাই নয়, জেল থেকে বেরিয়ে ‘সুগার ড্যাডি’কেও খুন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আর এরপরই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে—কে এই ‘সুগার ড্যাডি’?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রিয়া ও রামানুজ গুয়াহাটির হাতিগাঁও এলাকায় থাকতেন। প্রতিবেশীদের দাবি, গত সোমবার রাতে দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেদিন রাত আটটা নাগাদ রামানুজকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
পরদিন রাতের দিকে ওই বাড়ি থেকে পচা গন্ধ বের হতে শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভিতর থেকে রিয়ার দেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর মাথা একটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ফ্রিজের মধ্যে রাখা হয়েছিল। তাঁর হাতের কয়েকটি আঙুলও কাটা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই সন্দেহের কেন্দ্রে ছিলেন রামানুজ। পুলিশ তাঁকে খুঁজতে শুরু করে। প্রায় দু’দিন ধরে পালিয়ে থাকার পর রবিবার রাতে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার গুয়াহাটি আদালতে পেশ করার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন অভিযুক্ত। সেখানে তিনি সরাসরি দাবি করেন, স্ত্রীকে তিনি খুন করেছেন। কিন্তু এর পরেই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘সুগার ড্যাডি’-র প্রসঙ্গ। রামানুজ বলেন, জেল থেকে বেরিয়ে ওই ব্যক্তিকেও খুন করবেন। সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, ওই ‘সুগার ড্যাডি’ আসলে কে? তবে সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি অভিযুক্ত।
শুধু তাই নয়, আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের করা খুনের জন্য কোনও অনুশোচনা নেই বলেও দাবি করেন রামানুজ। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। রিয়ার সঙ্গে ওই ব্যক্তির কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, ‘সুগার ড্যাডি’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে এবং এই সম্পর্কই খুনের নেপথ্যে কোনও ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রিয়া তালুকদারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ফ্যান্সি বাজারের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেটে কাজ করতেন তিনি। তাঁর মা-বাবা কেউই জীবিত নেই। আত্মীয় বলতে তাঁর একমাত্র ভাই রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে রামানুজকেই মূল সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে তদন্ত চলছে। রিয়ার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত ক্রম আরও স্পষ্ট হতে পারে।
এই ঘটনায় ফের মনে পড়ছে দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি। শ্রদ্ধাকে তাঁর প্রেমিক আফতাব আমিন পুনাওয়ালা খুন করার পর দেহ একাধিক টুকরো করে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। গুয়াহাটির রিয়া হত্যাকাণ্ডে দেহ লুকিয়ে রাখার ধরন সামনে আসতেই সেই ঘটনার সঙ্গে তুলনা শুরু হয়েছে।
তবে রিয়া তালুকদার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ‘সুগার ড্যাডি’ সংক্রান্ত অভিযুক্তের মন্তব্য কি শুধুই রাগের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও সম্পর্কের যোগ রয়েছে—সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ।






