যাদবপুর কাণ্ডে দিলীপ ঘোষের হুঙ্কার: দেশবিরোধী স্লোগান উঠলে আবার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ হবে, সঙ্গে শর্বরীর বার্তা!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বুধবার রাতের জিবি (GB) মিটিংকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম মূল চর্চার বিষয়। ঘটনার পরদিন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের কড়া বার্তার পর, শুক্রবার সকালে বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর হুঁশিয়ারিতে বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে।
দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ও “সার্জিক্যাল স্ট্রাইক”-এর হুমকি
শুক্রবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে যাদবপুর কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজের চেনা মেজাজেই উত্তর দেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
- সংঘাত নিয়ে বক্তব্য: “আমি ইন্দোরে ছিলাম, তাই ভেতরের সব তথ্য পুরোটা জানি না। তবে এটুকু স্পষ্ট, দেশবিরোধী কাজ বা কার্যকলাপ এখানে চলতে দেওয়া যাবে না। তৃণমূলের আসকারাতেই এসব লালন-পালন হচ্ছে।”
- সরাসরি হুমকি: “আগেও এবিভিপি এখানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি আবার দেশবিরোধী স্লোগান ওঠে, তবে এবারও সেখানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে। আগামী ৬ মাস অপেক্ষা করুন, অনেক কিছু দেখতে পাবেন।”
[যাদবপুর বিতর্কে বিজেপি নেতৃত্বের জোড়া তোপ]
বুধবার রাতে জিবি মিটিং কেন্দ্র করে বাম-এবিভিপি মারামারি
├── বৃহস্পতিবার: বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের "রাষ্ট্রবিরোধী কারখানা" তোপ
└── শুক্রবার: প্রাতঃভ্রমণে দিলীপ ঘোষের "সার্জিক্যাল স্ট্রাইক"-এর কড়া বার্তা
শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ তকমা ও আগের দিনের সুর
বৃহস্পতিবার গোলপার্ক থেকে এবিভিপির প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়ে একই সুরে সুর মিলিয়েছিলেন যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়।
| নেতা/নেত্রী | দলীয় পদ/পরিচয় | মূল বক্তব্য |
| শর্বরী মুখোপাধ্যায় | বিজেপি বিধায়ক (যাদবপুর) | “যাদবপুর রাষ্ট্রবিরোধী মেশিনারি তৈরির জায়গা হতে দেওয়া যাবে না। ‘ইনশাল্লাহ’ বা ‘আজাদি’ স্লোগান বন্ধ করতে হবে।” |
| দিলীপ ঘোষ | সিনিয়র বিজেপি নেতা | “দেশবিরোধী স্লোগান উঠলেই আবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে। ৬ মাসের মধ্যে পরিস্থিতি বদলাবে।” |
কীভাবে শুরু হয়েছিল বিতর্ক?
বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির (FETSU) একটি সাধারণ সভা বা জিবি বৈঠক চলাকালীন এবিভিপির কয়েকজন সদস্য প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের দাবি ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অনুমোদিত নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়ন না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই সভা ডাকা হলো?
এই প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারি শুরু হয়, যা গড়ায় পাশের হাসপাতালেও। এর জেরেই বৃহস্পতিবার এসএফআই ও এবিভিপি পৃথক মিছিল করে রাজপথে নেমেছিল, যা সামাল দিতে পুলিশকে কালঘাম ছুটতে হয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ এবং নেত্রীবৃন্দের একে অপরকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসের পঠনপাঠনের পরিবেশ এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ যে হারে চড়ছে, তাতে জল কতদূর গড়ায় সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।






