কানপুরের ব্যবসায়ী খুনে বউমাই মাস্টারমাইন্ড! সিসিটিভিতে ফাঁস চাঞ্চল্যকর রহস্য

নিজের বাড়িতেই খুন হয়েছিলেন কানপুরের কোটিপতি ব্যবসায়ী। শ্বশুরের মৃত্যুতে প্রকাশ্যে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বউমা। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই বদলে গিয়েছে গোটা ছবিটা। পুলিশের দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—শ্বশুরকে খুনের পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিলেন বউমা শালুই। তাঁর নির্দেশেই ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচাকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
মৃত বিনীত মিনোচা ওষুধের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ছেলে সুব্রত এবং বউমা শালুর জীবনযাপন নিয়ে আপত্তি ছিল বিনীতের। উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রা এবং বেহিসেবি খরচ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ছেলে-বউমার হাতখরচেও রাশ টেনেছিলেন বিনীত। তাঁদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরাও বসিয়েছিলেন তিনি।
পুলিশের অনুমান, শ্বশুরের এই কড়াকড়িতেই ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করেন শালু। এই কাজে সাহায্য নেওয়া হয় পরিবারের দীর্ঘদিনের পরিচিত কর্মী বিশাল গৌতমের। জানা গিয়েছে, প্রায় ১৩ বছর ওই বাড়িতে কাজ করেছিলেন বিশাল। বর্তমানে সেখানে কাজ না করলেও বাড়ির কোথায় কী রয়েছে, পরিবারের সদস্যদের গতিবিধি—সবই তাঁর জানা ছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, খুনের পরিকল্পনা নিয়ে শালু ও বিশালের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হয়েছিল। পুলিশের দাবি, ফোনে অন্তত ৩০৯ বার কথা হয়েছিল তাঁদের। তাঁদের মধ্যে একাধিক চ্যাটও পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বিশালকে ৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন শালু। পরিকল্পনা ছিল, খুনের পরেই ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে এবং বাকি ৪ লক্ষ টাকা ১৫ দিন পরে মেটানো হবে।
খুনের দিন সন্ধ্যায় পার্টিতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান শালু ও সুব্রত। অভিযোগ, তাঁদের বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই আততায়ী বাড়িতে ঢোকে। বিনীতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে তারা। কিন্তু বাড়িতে ফিরে আততায়ী দু’জনকে দেখে ফেলেন বিনীত।
প্রথমে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ছুরি দিয়ে বিনীতের উপর হামলা চালানো হয়। বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় গোটা ঘটনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধরা পড়ে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর শ্বশুরের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন শালু। তাঁর আচরণে তখন সন্দেহের বিশেষ কিছু দেখেনি পুলিশ। কিন্তু তদন্তে ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে বিশালের যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর বিশালকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তদন্তকারীদের সামনে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সিসিটিভি ফুটেজ, ফোন কলের তথ্য এবং কথোপকথনের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত শালুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং পুরো পরিকল্পনায় তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।






