ইন্ডিয়া জোটে যোগদান নিয়ে জল্পনার মাঝেই বিজয়ের নয়া জোট! তামিলনাড়ুতে ‘SSJVA’ গড়ে চমক থলপতি বিজয়ের

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকেই থলপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম বা টিভিকে-র ইন্ডিয়া জোটে যোগদান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এমনকী, দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সর্বশেষ বৈঠকে বিজয়ের দলকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাবও উঠেছিল বলে খবর। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ফলে এখনও সরকারিভাবে ইন্ডিয়া জোটের শরিক নয় টিভিকে।
এর মধ্যেই তামিলনাড়ুতে নতুন রাজনৈতিক জোটের ঘোষণা করলেন বিজয়। টিভিকে-র নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে সেক্যুলার সোশাল জাস্টিস বিগট্রি অ্যালায়ান্স (SSJVA)। এই জোটে মূলত তামিলনাড়ুর একাধিক ছোট ও আঞ্চলিক দলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজয়ের নেতৃত্বাধীন এই জোটে জায়গা পেয়েছেন ভিসিকে প্রধান থল থিরুমাভালাভান, এমডিএমকে প্রধান ভাইকো এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের কে এম কাদের মহিউদ্দিনের মতো নেতারা। জোটে রয়েছে কংগ্রেসও। বুধবার চেন্নাইয়ে বিজয়ের নেতৃত্বে আয়োজিত বৈঠকে কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ প্রবীণ চক্রবর্তী এবং বিধানসভায় দলের নেতা টি কুথবার্ট উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
এই বৈঠকেই জোটের নাম চূড়ান্ত করার পাশাপাশি তার সাংগঠনিক কাঠামো এবং কার্যপদ্ধতি নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ তৈরি হল।
জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও বিজয়ের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই বিজয়কে ইন্ডিয়া জোটে আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়েনি।
এরই মধ্যে বিজয়কে শুধু তামিলনাড়ুর রাজনীতির নেতা নয়, জাতীয় স্তরের সম্ভাব্য মুখ হিসেবেও তুলে ধরার চেষ্টা করছে টিভিকে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দের নিরিখে বিজয় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সেই সমীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই বিজয়কে জাতীয় রাজনীতির সম্ভাব্য মুখ হিসেবে তুলে ধরার তৎপরতা আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুতে বিজয়ের নেতৃত্বে আলাদা জোট গঠন স্বাভাবিকভাবেই নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাহলে কি ইন্ডিয়া জোটে যোগ দিলেও বিজয় সরাসরি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নিতে চাইছেন না? জাতীয় রাজনীতিতে বিজয়ের ভূমিকা ঠিক কী হতে চলেছে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
তবে কংগ্রেস অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছে। হাত শিবিরের দাবি, খুব শীঘ্রই বিজয় ইন্ডিয়া জোটে যোগ দেবেন এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী পদে তাঁর দল সমর্থন করবে। কংগ্রেসের যুক্তি, তামিলনাড়ুতে তৈরি হওয়া SSJVA মূলত রাজ্যস্তরের রাজনৈতিক সমীকরণ। এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের লড়াইকে এক করে দেখা উচিত নয়।
উদাহরণ হিসেবে উত্তরপ্রদেশের পিডিএ জোট এবং মহারাষ্ট্রের মহাবিকাশ আঘাড়ির কথা তুলে ধরছে কংগ্রেস। উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বাধীন পিডিএ-তে কংগ্রেস রয়েছে। আবার মহারাষ্ট্রে এমভিএ-র শরিক দলগুলিই দিল্লির রাজনীতিতে ইন্ডিয়া জোটের অংশ। একইভাবে তামিলনাড়ুতেও বিজয়ের রাজ্যস্তরের জোট এবং জাতীয় স্তরের ইন্ডিয়া জোট পাশাপাশি থাকতে পারে বলেই কংগ্রেসের বক্তব্য।
ফলে বিজয়ের নতুন জোট গঠন আপাতত ইন্ডিয়া জোটে তাঁর যোগদানের সম্ভাবনাকে খারিজ করছে না। বরং তামিলনাড়ুতে নিজের রাজনৈতিক শক্তি ধরে রেখে জাতীয় রাজনীতিতেও নিজের জায়গা তৈরি করার কৌশল হিসেবেই এই পদক্ষেপকে দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।






