‘শিখা ইন’-এর আগুনে ৯ মৃত্যু, জানলার কার্নিশে আধ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মোবাইলের ফ্ল্যাশে প্রাণ বাঁচালেন বাংলাদেশি দম্পতি

কলকাতার নিউ মার্কেটের ‘শিখা ইন’ হোটেলের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশি বলে জানা গিয়েছে। তবে ভাগ্যের জোরে এবং উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন আরও অনেক আবাসিক। তাঁদেরই একজন বাংলাদেশের সোমাইয়া আখতার ও তাঁর স্বামী রেজাউল ইসলাম। কলকাতা বেড়াতে এসে মঙ্গলবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে আটকে পড়েছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত মাথা ঠান্ডা রেখে বুদ্ধি খাটিয়ে প্রাণ বাঁচান দম্পতি।
বাংলাদেশের বাসিন্দা সোমাইয়া ও রেজাউল প্রায় সাত দিন আগে কলকাতায় বেড়াতে এসেছিলেন। থাকার জন্য তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন ‘শিখা ইন’ হোটেলকেই। মঙ্গলবার রাতে অন্যান্য আবাসিকের মতো খাওয়াদাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন দু’জন।
রাতের ঘুম ভাঙে দরজায় ধাক্কার শব্দে। দরজা খুলতেই চোখে পড়ে চারপাশের ভয়াবহ পরিস্থিতি। গোটা জায়গা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই বুঝতে পারেন, ঘরের বাইরে বেরোনো মানেই বড় বিপদ।
পরিস্থিতি কঠিন হলেও আতঙ্কে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেননি রেজাউল। সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামার চেষ্টা না করে বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে নিয়ে ঘরের জানলা দিয়ে বেরিয়ে কার্নিসে উঠে যান।
সোমাইয়া জানান, কার্নিসে দাঁড়িয়ে তাঁরা আগুনের কথা জানিয়ে চিৎকার করছিলেন। কিন্তু তিনতলার কার্নিস থেকে নীচের রাস্তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। ফলে রাস্তায় থাকা কেউ তাঁদের দেখতে পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও নিশ্চিত ছিলেন না তাঁরা।
তখনই মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন সোমাইয়া।

অভিশপ্ত হোটেলের কার্নিশে বাংলাদেশি দম্পতি।
তাঁর কথায়, “কার্নিসে দাঁড়িয়ে আগুন আগুন বলে চিৎকার করছিলাম। তিনতলার কার্নিস থেকে রাস্তা ভালো দেখা যাচ্ছিল না। রাস্তায় কেউ থাকলেও তাঁরা যে আমাদের দেখতে পাবে না তা বুঝতে পারছিলাম। তাই বুদ্ধি করে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালাই।”
প্রায় আধ ঘণ্টা কার্নিসের উপর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। শেষ পর্যন্ত দমকলকর্মীরা তাঁদের দেখতে পান। মইয়ের সাহায্যে দু’জনকেই নিরাপদে নীচে নামিয়ে আনা হয়।
প্রাণে বেঁচে যাওয়ার পরও সেই রাতের আতঙ্ক কাটছে না দম্পতির। সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামার চেষ্টা করলে কী হতে পারত, কিংবা জানলা দিয়ে বেরিয়ে কার্নিসে পৌঁছতে না পারলে তাঁদের পরিণতি কী হত—সেই কথা ভাবলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন সোমাইয়া ও রেজাউল।
শিখা ইন-এর অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু এবং বহু আবাসিকের আহত হওয়ার পর হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আগুন লাগার পর একাধিক আবাসিককে বিকল্প পথ খুঁজে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করতে হয়েছে। সোমাইয়া ও রেজাউলের ক্ষেত্রে জানলা দিয়ে কার্নিসে পৌঁছনো এবং মোবাইলের আলোয় দমকলের নজরে আসাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের জীবন বাঁচানোর পথ হয়ে দাঁড়ায়।






