Nepal Flash Flood: মৃত ১১২৭, নিখোঁজ ৪৮৫৮; জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শ্রমিকদের উদ্ধারে উদ্বেগ

ভয়াবহ হড়পা বানের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নেপালে এখনও নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষ। বুধবার নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১২৭। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ প্রায় ৪৮৫৮ জন। উদ্ধার করা হয়েছে ১১,৯০০-রও বেশি মানুষকে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষ করে নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। ধস, কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপের স্তর পেরিয়ে সুড়ঙ্গের গভীরে পৌঁছনো কার্যত কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে যত সময় গড়াচ্ছে, জীবিত অবস্থায় শ্রমিকদের উদ্ধারের আশাও ততই ক্ষীণ হচ্ছে।
মৃত ১১২৭, নিখোঁজ প্রায় ৪৮৫৮
২৬ অগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের পর নেপালে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রাণহানি বেড়ে হয়েছে ১১২৭। নিখোঁজ রয়েছেন ৪৮৫৮ জন। বিপর্যয়ের পর ১১,৯০০-র বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকারী দলগুলির সামনে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ধসে পড়া রাস্তা, কাদা, পাথর ও বিপুল ধ্বংসস্তূপ। বহু রাস্তা ও সেতু ভেসে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে শত শত শ্রমিক?
২৬ অগস্টের বিপর্যয়ে নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি নদীর জল, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়েছে প্রকল্পগুলির বিভিন্ন সুড়ঙ্গে।
ফলে সুড়ঙ্গের ভিতরে কতজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন এবং তাঁরা ঠিক কোথায় রয়েছেন, তা নির্দিষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুড়ঙ্গের ভিতরে অক্সিজেন, জলের অভাব এবং নিরাপদ প্রবেশপথ না থাকায় উদ্ধার অভিযান আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ড্রিলিং, এক্সক্যাভেটর, থার্মাল ড্রোনে চলছে তল্লাশি
নেপাল সেনার তরফে জানানো হয়েছে, ত্রিশুলী-৩ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের উপরের অংশ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। সেখানে পৌঁছনোর পথ তৈরি করতে ড্রিলিং মেশিন, এক্সক্যাভেটর এবং অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সুড়ঙ্গের ভিতরে জীবিত মানুষের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য থার্মাল ড্রোন-সহ বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে ভারত, চিন ও আমেরিকার বিশেষজ্ঞরাও সহায়তা করছেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে সুড়ঙ্গের মুখে বিপুল পরিমাণ কাদা ও পাথর জমে যাওয়ায় ভিতরে প্রবেশের পথ তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তার উপর অনেক রাস্তা ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেওয়াও কঠিন।
একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিখোঁজ শত শত কর্মী
শুধু ত্রিশুলী-৩ নয়, নেপালের আরও একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার খবর এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—
- আপার ট্রিশুলি-১ প্রকল্পে ৫৫০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ।
- আপার ত্রিশুলী-৩বি প্রকল্পে নিখোঁজ প্রায় ১২২ জন।
- লাংটাং খোলা প্রকল্পে নিখোঁজ ৪১ জন।
- রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিখোঁজ ৯৩ জন।
- চিলিমে প্রকল্পে অন্তত ৮ জনের কোনও খোঁজ নেই।
এই সংখ্যাগুলি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
কয়েকশো শ্রমিক উদ্ধার হলেও বিপদ কাটেনি
এর আগে ত্রিশুলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে কয়েকশো শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু সুড়ঙ্গের বাকি অংশ কাদায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আরও গভীরে আটকে থাকা কর্মীদের কাছে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফলে ধ্বংসস্তূপের নীচে কিংবা সুড়ঙ্গের অন্ধকারে আটকে থাকা মানুষগুলিকে যত দ্রুত সম্ভব খুঁজে বের করাই এখন উদ্ধারকারী দলগুলির কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
‘সময় যত যাচ্ছে, সম্ভাবনা তত কমছে’
নেপালের ন্যাশনাল ইমারজেন্সি সার্ভিসেস কেন্দ্রের আধিকারিকদের মতে, সময় যত এগোচ্ছে, জীবিতদের উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত কমছে। তবে আশার আলো এখনও পুরোপুরি নিভে যায়নি।
সুড়ঙ্গগুলিতে এখনও প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে চলেছে উদ্ধারকারী দল। প্রযুক্তির সাহায্যে ভিতরের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিরাপদ পথ তৈরির কাজও চলছে।
নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা ইতিমধ্যেই ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সেই ভূমিকম্পে আট হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এবারও মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন সেই মানুষগুলিকে নিয়ে, যাঁরা এখনও নিখোঁজ—বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিয়ে।






