“আমগাছটা না থাকলে বেঁচে ফিরতাম না!” নেপালের বানে মৃত্যুপুরী থেকে ফিরে মিস্ত্রি বিবেক ও ১১ বছরের রিহানার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা

- মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা: শৌচাগারের ৫ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়তে গিয়ে হঠাৎ ধেয়ে আসা কাদা-জলের তোড়ে আটকে পড়েন ২৪ বছরের মিস্ত্রি বিবেক কুমাল।
- আমগাছে অলৌকিক প্রাণরক্ষা: চার সহকর্মী পালিয়ে বাঁচলেও বিবেক রাস্তার ধারের একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরে অলৌকিকভাবে নিজের প্রাণ রক্ষা করেন।
- স্কুলছাত্রীর শিউরে ওঠা গল্প: স্কুল থেকে ফেরার পথে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েও বেঁচে ফেরে ১১ বছরের রিহানা লামিছানে।
- কাঠমান্ডু ট্রমা সেন্টারের দৃশ্য: কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে ভর্তি চিকিৎসাধীন রসুয়া জেলার একাধিক বন্যাকবলিত মানুষ।
“আমগাছটা না থাকলে মরেই যেতাম”
নেপালের রসুয়া জেলার নিম্ন অববাহিকার বিদুর এলাকায় একটি নতুন বাড়ির শৌচাগারের গর্ত খুঁড়ছিলেন ২৪ বছরের মিস্ত্রি বিবেক কুমাল। পাঁচ ফুট গভীরে কাজ করার সময় হঠাৎই ভেসে আসে তীব্র জলের শোঁ শোঁ শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাদা ও পাথরমিশ্রিত এক প্রকাণ্ড কাদার তোড় ধেয়ে আসে।
গর্ত থেকে উঠে আসার আগেই সহকর্মীরা আতঙ্কে দৌড় দেন। প্রাণ বাঁচাতে বিবেকও দৌড় লাগান, কিন্তু জলের স্রোত তাঁকে গিলে খাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে রাস্তার ধারের একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরেন তিনি। সেই গাছের ডালে আটকে থেকেই অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি। হাসপাতালে শুয়ে বিবেক বলেন, “যে বাড়িটায় কাজ করছিলাম, চোখের সামনে সেটা ধূলিসাৎ হয়ে গেল। গাছটা না থাকলে আমি মরেই যেতাম।”
জলের তোড়ে ভেসে গেল ১১ বছরের রিহানা
একই হাসপাতালের অন্য বেডে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ফিরে আসা আরেক খুদে সারভাইভার ১১ বছরের রিহানা লামিছানে। স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে মুহূর্তের মধ্যে আসা জলের তোড়ে ভেসে যায় সে।
| সারভাইভারের নাম | বয়স | ঘটনার স্থান | কীভাবে রক্ষা পেলেন / বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| বিবেক কুমাল | ২৪ বছর | বিদুর, রসুয়া | রাস্তার ধারের আমগাছ আঁকড়ে ধরে বেঁচে ফেরেন; ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন। |
| রিহানা লামিছানে | ১১ বছর | রসুয়া | স্কুল ফেরার পথে ভেসে যায়; বুকে ও পায়ে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। |
[শৌচাগারের গর্তে কাজ / স্কুল ফেরত] ➔ [হঠাৎ ধেয়ে আসা কাদা-পাথরের তোড়] ➔ [গাছ আঁকড়ে / অলৌকিক উদ্ধার] ➔ [কাঠমান্ডু ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা]
চোখেমুখে আতঙ্ক, স্বস্তির নিশ্বাস স্বজনদের
রসুয়ার নিম্নাঞ্চলে বানের তাণ্ডবে বহু ঘরবাড়ি মুহূর্তের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে। কাঠমান্ডুর ট্রমা সেন্টার এখন যেন স্বজনহারা ও প্লাবন থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া মানুষের আর্তনাদের কেন্দ্রস্থল। রিহানার পাশে বসে মা রিতা কাঁদতে কাঁদতেই বলেন, “মেয়ে বেঁচে ফিরেছে, এটাই ভগবানকে ধন্যবাদ। ওর বন্ধুদের কী হলো এখনও জানি না।”






