ভূমিকম্প নয়, হিমবাহের বিশাল ধসেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান! জানাল USGS, মৃত বেড়ে ১৭৫, নিখোঁজ ১৪২ ভারতীয়

- USGS-এর সংশোধিত তথ্য: নেপালের রসুয়ায় হড়পা বানের নেপথ্যে কোনো স্বাভাবিক টেকটোনিক ভূমিকম্প ছিল না; বরফ ও পাথরের বিশাল ধস (Debris Flow) নদীখাতে নেমে আসায় এই তাণ্ডব ঘটেছে।
- ভূমিকম্প বনাম সেসমিক সিগন্যাল: হিমবাহ ধসের বিকট শক্তি এতটাই বেশি ছিল যে তা ভূগর্ভে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য সেসমিক সিগন্যাল (Seismic Signal) তৈরি করে।
- মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা: নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫ জনে। নিখোঁজ ১,০০০-এরও বেশি মানুষ, যার মধ্যে অন্তত ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিক।
- চিনের তিব্বতেও তাণ্ডব: তিব্বতের গিরং এলাকায় ৩ জনের মৃত্যু ও ২৬৫ জন নিখোঁজ। ড্রোন ও উপগ্রহ চিত্রে (Planet Labs) কাদা-পাথরের ধ্বংসলীলার শিউরে ওঠা ছবি ধরা পড়েছে।
কেন ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প বলা ভুল? USGS-এর বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা
বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে নেপাল-চিন সীমান্তে একটি শক্তিশালী কম্পন ধরা পড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমেরিকার ভূতত্ত্ব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা (USGS) এটিকে ৪.৪ বা ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করলেও, পরে প্ল্যানেট ল্যাবসের (Planet Labs) উচ্চ-প্রযুক্তির স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে তারা ভুল সংশোধন করে।
USGS জানায়, হিমবাহের বিশাল অংশ পাথর ও কাদা নিয়ে লেহেন্দে নদীতে আছড়ে পড়ে। এই প্রচণ্ড অভিঘাতের সেসমিক এনার্জি বা ভূকম্পীয় তরঙ্গ রিখটার স্কেলে ৫.২ মাত্রার কম্পন হিসেবে ফুটে ওঠে। অর্থাৎ কম্পন থেকে বান আসেনি, বরং ধসের প্রচণ্ড শক্তিতেই কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল।
ক্ষয়ক্ষতির বর্তমান চিত্র ও পরিসংখ্যান
| বিষয়ের বিবরণ | তথ্য ও পরিসংখ্যান (বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত) |
| মোট উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ | ১৭৫ জন (রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলা থেকে)। |
| মোট নিখোঁজ মানুষ | ১,০০০-এর বেশি (৪০৩ জন পর্যটক, যার মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি)। |
| নিখোঁজ ভারতীয় | ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিক। |
| তিব্বতের ক্ষয়ক্ষতি | ৩ জনের নিশ্চিত মৃত্যু, ২৬৫ জন নিখোঁজ। |
| জরুরি সহায়তা কেন্দ্র | নেপাল সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (হেলিকপ্টার অপারেশনের মূল ঘাটি)। |
[হিমবাহ ও বরফ-পাথরের বিশাল ধস] ➔ [লেহেন্দে ও ভোটেকোশি নদী অবরুদ্ধ] ➔ [৫.২ সমতুল্য সেসমিক তরঙ্গ সৃষ্টি] ➔ [৩৩ ফুট উঁচু কাদা-জলের তোড়ে ভাসল রসুয়া]
বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে তল্লাশি ও ভারতীয় প্রতিক্রিয়া
হড়পা বানের তোড়ে একাধিক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ায় পুরো এলাকা অন্ধকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় রসুয়া ও কাঠমান্ডুর সেনা ক্যাম্পে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে নিখোঁজদের নাম নথিভুক্ত করছে পুলিশ।
ভারতের জাতীয় বিপর্যয় সাড়াদানকারী দল (NDRF) ও ভারতীয় বায়ুপথের বিশেষ কপ্টার ইতিমধ্যেই দুর্গম অঞ্চলে আটকে থাকা ভারতীয় কৈলাসযাত্রী ও পর্যটকদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।






