
হিরোশিমার পারমাণবিক বোমা হামলার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরে পিঠে মৃত ভাইকে নিয়ে বাবা-মায়ের খোঁজে বেরিয়েছিল এক খুদে। সেই মর্মস্পর্শী ছবিই পরবর্তীকালে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল ‘গ্রেভ অফ দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর মতো ছবিকে। এবার যেন সেই ইতিহাসেরই এক করুণ প্রতিচ্ছবি দেখা গেল বিধ্বস্ত নেপালে।
নেপালের ধ্বংসস্তূপে পিঠে ছোট বোনকে নিয়ে বাবা-মায়ের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক খুদে দাদা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও দেখে চোখে জল নেটিজেনদের।
পিঠে দুধের শিশু, বাবা-মায়ের খোঁজে দাদা
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিপর্যস্ত রাস্তা ধরে হেঁটে চলেছে এক ছোট ছেলে। তার পিঠে বাঁধা একটি দুধের শিশু—সম্ভবত তার ছোট বোন। দু’জনের মুখ, হাত ও পা কাদা-মাটিতে মাখামাখি। ক্লান্তি স্পষ্ট খুদে দাদার চোখেমুখে।
চারপাশে শুধু ধ্বংসস্তূপ। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই ছোট বোনকে আগলে নিয়ে বাবা-মায়ের খোঁজ করে চলেছে সে। বোনটি কিছুই বোঝার বয়সে নেই। শুধু কেঁদেই চলেছে।
আর দাদা? যেন নিজের ছোট্ট কাঁধে সমস্ত দায়িত্ব তুলে নিয়ে আপনজনদের খুঁজে চলেছে।

কোথায় বাবা-মা, জানে না কেউ
ভিডিওটি গত ৩০ আগস্ট এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করা হয়। তবে ওই দুই শিশুর নাম, পরিচয় বা বাড়ি কোথায়—সে সম্পর্কে এখনও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
তাঁদের বাবা-মা বেঁচে রয়েছেন কি না, কিংবা থাকলে কোথায় রয়েছেন, সেটিও জানা যায়নি। ফলে ভিডিওটি ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
‘গ্রেভ অফ দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর কথা মনে করাচ্ছে
হিরোশিমার পারমাণবিক হামলার পর এক খুদের পিঠে মৃত ভাইয়ের ছবি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছিল। সেই মানবিক ট্র্যাজেডির আবহেই তৈরি হয়েছিল জাপানি অ্যানিমেশন ছবি ‘গ্রেভ অফ দ্য ফায়ারফ্লাইস’।
নেপালের এই ভিডিও সেই স্মৃতিকেই যেন নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। পার্থক্য একটাই—এখানে শিশুটির পিঠে মৃতদেহ নয়, রয়েছে জীবিত ছোট বোন। কিন্তু বাবা-মায়ের সন্ধানে তাদের অসহায় যাত্রার দৃশ্য একই ভাবে হৃদয়বিদারক।
ভিডিওটি দেখে নেটিজেনদের একাংশ দুই শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সকলের একটাই প্রার্থনা—যত দ্রুত সম্ভব ওই দুই খুদে যেন তাদের বাবা-মায়ের সন্ধান পায় এবং নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারে।







