
কাশ্মীর নিয়ে ভারতকে বারবার জ্ঞান দেওয়ার মাঝেই পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উঠল প্রশ্ন। মাদ্রাসার জন্য জমি প্রয়োজন—এই অভিযোগের ভিত্তিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শতবর্ষ প্রাচীন একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার পাকিস্তানের একটি সংখ্যালঘু সংগঠনের তরফে এই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে নারোয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে ছিল ওই মন্দির। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মন্দিরটির বয়স প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছর এবং প্রায় ১০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে ছিল সেটি। মন্দিরের পাশেই একটি মাদ্রাসা রয়েছে।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই মন্দিরের জমির দিকে নজর ছিল মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত কট্টরপন্থীদের। সম্প্রতি মন্দিরটি ভেঙে ফেলে জমিটি মাদ্রাসার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান বা টিএলপির যোগ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে।
মন্দির নিজে থেকেই ভেঙেছে, দাবি প্রশাসনের
যদিও পাকিস্তান সরকারের তরফে মন্দির ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, প্রবল বৃষ্টির কারণে মন্দিরটি নিজে থেকেই ভেঙে পড়েছে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। তাঁদের দাবি, মন্দির ভেঙে পড়ার পর সেখান থেকে চূড়ার ধাতব অংশ, অন্যান্য সামগ্রী এবং ধ্বংসস্তূপের ইট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে মন্দিরটি প্রাকৃতিক কারণে ধসে পড়েছিল, নাকি পরিকল্পিত ভাবে ভাঙা হয়েছিল—তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে আবেদনও জানানো হয়েছে।

ফের প্রশ্নের মুখে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা
পাকিস্তানে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, ধর্মান্তরের চাপ এবং সম্পত্তি দখলের অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে হিন্দু মহিলা ও কিশোরীদের অপহরণ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।
নারোয়ালের এই মন্দির ভাঙার অভিযোগ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। একটি শতবর্ষ প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা কীভাবে ধ্বংস হল, সেটির প্রকৃত কারণ কী এবং ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে—স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে তার উত্তর চায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়।






