প্রতিবাদের মুখে পিছু হটল বিজয় সরকার, প্রত্যাহার করা হলো শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিরোধী নির্দেশিকা

বামপন্থী ও তামিলনাড়ু ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তামিলনাড়ু সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থলপতির নির্দেশে গত ১৪ আগস্ট স্কুল ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছে ওই নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে বুধবার সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নিল বিজয় সরকার।
সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক’, ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ বলে আক্রমণ করেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির জাতীয় সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়। অন্যদিকে, বিজয় সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছিল বিজেপি।
বিজেপি নেতা ভিনোজ পি সেলভম সিজেপি এবং বামপন্থী সংগঠনগুলিকে ‘বিশৃঙ্খলার কারিগর’ বলে আক্রমণ করেন। ফলে পড়ুয়াদের রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশগ্রহণ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।
বামেদের সমর্থনেই ক্ষমতায় বিজয়
বিজয় সরকারের বর্তমান অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে আরও একটি কারণে। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে ফ্লোর টেস্টে উত্তীর্ণ হতে কংগ্রেস এবং ভিসিকে-র মতো কম আসন পাওয়া দলগুলির পাশাপাশি বামেদের সমর্থনের উপরও নির্ভর করতে হয়েছিল বিজয়কে।
সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা নিশ্চিত করতে বামপন্থীরা বিজয়কে বাইরে থেকে নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই বামপন্থী আন্দোলনেই পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে সরকারের নির্দেশ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়।
শেষ পর্যন্ত বুধবার নির্দেশ প্রত্যাহার করায় আপাতত সেই বিতর্কে ইতি পড়ল।
শিক্ষা আন্দোলনের আবহে সিদ্ধান্ত
দেশজুড়ে নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে একসময় ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল। সর্বভারতীয় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে জেন জি-র আন্দোলনও বড় আকার নেয়। সেই সময় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিও জোরালো হয়েছিল।
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডেও শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলন হয়েছে এবং সেখানে আন্দোলনকারীরা সাফল্য পেয়েছেন। সেই আবহের মধ্যেই তামিলনাড়ুতেও শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনের পরিসর তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ ঠেকাতে সরকারের নির্দেশ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত সেই নির্দেশই প্রত্যাহার করতে হল বিজয় সরকারকে।
স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চেও বিতর্ক
এর আগেও একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দর্শকাসনের সামনের সারিতে বসে থাকা তৃষাকে তিনি যেভাবে ‘স্যালুট’ করেছিলেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।
ডিএমকের অভিযোগ, বিজয়ের ওই আচরণ তাঁর ভোটারদের একাংশও মেনে নিতে পারেননি। ফলে পড়ুয়াদের বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞার বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।






