জেলবন্দি উমর খালিদকে ‘সাহসী’ আখ্যা! CJP মুখপাত্র সৌরভ দাসের পুরনো পোস্ট ভাইরাল, সুর চড়ালেন বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরে হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) বিক্ষোভের পেছনে কি উগ্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে? সম্প্রতি সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার অন্যতম মূল অভিযুক্ত উমর খালিদের একটি পুরোনো ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করে এই জল্পনা উস্কে দিলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ও কেরল বিজেপির সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর।
কী ছিল সৌরভ দাসের সেই বিতর্কিত সোশাল মিডিয়া পোস্টে?
কেরলের বিজেপি প্রধান রাজীব চন্দ্রশেখর সৌরভ দাসের যে পোস্টটির স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন, তাতে জেলবন্দি উমর খালিদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাসকে।
সেই ছবির ক্যাপশনে সৌরভ লিখেছিলেন—
“অত্যন্ত সাহসী উমর খালিদের সঙ্গে দেখা। তুচ্ছ ও মিথ্যা মামলায় তিনি ৫ বছর ধরে জেলবন্দি। দেশের বিচার ব্যবস্থার গায়ে এই কালো দাগ সারা জীবনের জন্য থেকে যাবে। তাঁর মাথা নত না করার মানসিকতা তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দেয়।”
উমর খালিদকে ‘সাহসী’ এবং বিচার ব্যবস্থাকে ‘কালো দাগ’ বলার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে শাসকদল।
[বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু]
* ছবি ও পোস্ট: CJP মুখপাত্র সৌরভ দাস ও উমর খালিদের যৌথ ছবি।
* মন্তব্য: উমর খালিদকে 'সাহসী' ও নির্দোষ হিসেবে বর্ণনা।
* প্রকাশকারী: কেরল রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর।
* বিজেপির খোঁচা: ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে দেশবিরোধী ও উগ্রপন্থীদের উসকানির চক্রান্ত।
রাজীব চন্দ্রশেখরের কড়া প্রতিক্রিয়া ও অভিভাবকদের প্রতি বার্তা
সৌরভ দাসের সোশাল মিডিয়া পোস্টের ছবি তুলে ধরে নাম না করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর।
তিনি সোশাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন—
“যারা প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং তাদের যেসব অভিভাবক নিজেদের ন্যায্য দাবির জন্য লড়াই করছেন, তাদের এই ছবি ও বার্তাটি ভালো করে দেখা উচিত। বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিন যে আপনারা আদতে কাকে বা কাদের উদ্দেশ্যকে সমর্থন করছেন।”
পাশাপাশি তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো ধরনের হিংসাত্মক ও রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলন ভারতে বরদাস্ত করা হবে না। যারা দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে, তাদের কড়া হাতে মোকাবিলা করা হবে।
নেপথ্যে ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা ও উমর খালিদের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিএএ (CAA) এবং এনআরসি (NRC) বিরোধী আন্দোলনের সময় উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ হিংসায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং শত শত মানুষ আহত হন। দিল্লি পুলিশের তদন্তে উমর খালিদের নাম মূল চক্রান্তকারী এবং উসকানিমূলক ভাষণদাতা হিসেবে উঠে আসে।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি পুলিশ তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ইউএপিএ (UAPA) ধারায় গ্রেপ্তার করে। তার পর থেকে টানা ৫ বছর ধরে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে জেলবন্দি রয়েছেন এই প্রাক্তন ছাত্রনেতা। এই আবহে তাঁর সাথে ককরোচ জনতা পার্টির নেতার এই সম্পর্ক নিট আন্দোলনের ‘চরিত্র’ নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।
এক নজরে বিতর্কের প্রেক্ষাপট:
| বিষয় | বিবরণ |
| মূল চরিত্রসমূহ | উমর খালিদ (দিল্লি দাঙ্গায় অভিযুক্ত), সৌরভ দাস (CJP মুখপাত্র), রাজীব চন্দ্রশেখর (বিজেপি নেতা)। |
| বিতর্কের কারণ | উমর খালিদের প্রশংসা করে এবং বিচারব্যবস্থাকে তোপ দেগে সৌরভ দাসের ভাইরাল পোস্ট। |
| বিজেপির অবস্থান | সাধারণ পরীক্ষার্থীদের পিঠে বন্দুক রেখে সমাজবিরোধীদের মদত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। |
| আইনি স্থিতি | ২০২০ সাল থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও ইউএপিএ (UAPA) মামলায় জেলে উমর খালিদ। |
যন্তর মন্তরে সহিংসতার পেছনে ১,০০০-এর কাছাকাছি দাগি অপরাধীদের শনাক্ত করার পর, এবার সিজেপি মুখপাত্রের উমর খালিদ প্রীতি প্রকাশ্যে আসায় নিট বিরোধী আন্দোলনের মূল সুর অনেকটাই ব্যাকফুটে। শিক্ষার্থীরা কি সত্যিই স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমেছিল নাকি রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ইন্ধনে পুরো আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছিল, তা নিয়ে তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।






