UP School Student Death: শিক্ষকের মারধরের অভিযোগ, ১০ দিন পর ছাত্রীর মৃত্যু

পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ জানাতে গিয়ে শিক্ষকের হাতে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠল এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর। অভিযোগ, শুধু মারধরই নয়, ছাত্রীর হাত মুচড়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ওই নাবালিকার। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলায়। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পরীক্ষার হলে শুরু হয় বচসা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রীর নাম ক্ষমা। হারদোই জেলার একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত সে। গত ২০ আগস্ট পরীক্ষা দিতে স্কুলে গিয়েছিল ক্ষমা।
মৃতার বাবা উমেশ দীক্ষিতের অভিযোগ, পরীক্ষা চলাকালীন এক সহপাঠী তাঁকে জোর করে উত্তরপত্র দেখানোর চেষ্টা করে। এই বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এরপর ঘটনার কথা শিক্ষককে জানাতে যায় ক্ষমা।
অভিযোগ, ছাত্রীর কথা শোনার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তাকে মারধর করেন। এমনকী তাঁর হাত মুচড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বাড়ি ফিরে ফুলে যায় হাত
উমেশের দাবি, স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর মেয়ের হাত অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ছিল। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল ক্ষমা। এরপর তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসকেরা জানান, নাবালিকার হাতের অভ্যন্তরীণ টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে রক্ত জমাট বেঁধেছে বলে পরিবারের দাবি।
চিকিৎসার খরচ জোগাতে ঋণ
মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছিল পরিবার। উমেশের দাবি, পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে তাঁকে ঋণ নিতে হয়।
পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ক্ষমাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ৩০ আগস্ট আচমকা মৃত্যু হয় তার।
তবে ঠিক কী কারণে নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিন জনের বিরুদ্ধে এফআইআর
হারদোই পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবোধ গৌতম জানিয়েছেন, মৃত ছাত্রীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অক্ষয় সিং যাদব, অভিযুক্ত শিক্ষক রাজেন্দ্র গঙ্গওয়ার এবং ওই সহপাঠীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাসপেন্ড দুই শিক্ষক
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক পদক্ষেপও শুরু হয়েছে। ঘটনায় দুই শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে নাবালিকার মৃত্যুর সঙ্গে স্কুলে ঘটে যাওয়া কথিত মারধরের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্কুলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষকদের আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।






