Uttarakhand Flood: হড়পা বান ও ধসে মৃত ৭, অসমে ৪, বন্যার কবলে একাধিক রাজ্য

বর্ষার দাপটে ফের ভয়াবহ পরিস্থিতি উত্তরাখণ্ডে। টানা বৃষ্টি, হড়পা বান এবং ভূমিধসে দেবভূমিতে নতুন করে মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। একের পর এক রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ব্যাহত স্বাভাবিক জনজীবন। একই সঙ্গে অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশেও তৈরি হয়েছে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা।
উত্তরাখণ্ডে হড়পা বান-ধসে মৃত্যু ৭
টানা বৃষ্টির জেরে উত্তরাখণ্ডের একাধিক জেলায় বিপর্যয় নেমে এসেছে। এখনও পর্যন্ত ১৭২টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে পিথোরাগড়, নৈনীতাল এবং বাগেশ্বরের দুটি হাইওয়েও রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যেই অলমোড়া, বাগেশ্বর, টিহরী, নৈনীতাল, উধম সিং নগর এবং পৌড়ীতে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লাগাতার বৃষ্টির কারণে গোলা নদীতে ২৭ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে নদীর জল। এর জেরে হলদোয়ানী, উধম সিং নগর, পুলভট্টা, শান্তিপুরী এবং সূর্যনগরের মতো সংলগ্ন এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আলমোড়ায় বাড়ির দেওয়াল ধসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে প্রবল জলস্রোতে একটি গাড়ি ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও দু’জন।
গুয়াহাটিতে ভূমিধসে ৪ মৃত
অসমেও নতুন করে বিপর্যয় নেমে এসেছে। গুয়াহাটির দুটি পৃথক এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
মাথঘারিয়ায় ধসে একটি বাড়ি চাপা পড়ে এক দম্পতি এবং তাঁদের ১১ বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের ১৯ বছরের এক যুবককে অবশ্য মাটি সরিয়ে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্য একটি ভূমিধসের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের।
ইতিমধ্যেই গুয়াহাটির বহু রাস্তা জলের তলায় চলে গিয়েছে।
গঙ্গার জল বাড়ায় উদ্বেগ উত্তরপ্রদেশে
উত্তরপ্রদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গঙ্গার জলস্তর বাড়তে থাকায় নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বারাণসীর ৮৪টি ঘাট জলের তলায় চলে গিয়েছে এবং বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে গঙ্গা।
চিত্রকূট ও মন্দাকিনী নদীর জলও বিপদসীমার প্রায় চার ফুট উপর দিয়ে বইছে। রামঘাট, নির্মোহী আখড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রবল জলস্রোতে রামঘাট ও নয়াগাঁওয়ের সংযোগকারী সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে।
ঝাড়খণ্ডে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাল সতর্কতা
ঝাড়খণ্ডের একাধিক জেলায় হড়পা বান ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। গরওয়া, পলামু, লাতেহার, লোহারডাগা, গুমলা, সরাইকেলা-খারসওয়ান, পূর্ব সিংভূম, সিমডেগা, খুঁটি এবং পশ্চিম সিংভূমে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গরওয়া, পলামু, সিমডেগা এবং পশ্চিম সিংভূমে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। লাগাতার বৃষ্টিতে ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত সাধারণ জনজীবন।
নেপালের প্লাবনের প্রভাব বিহারেও
বিহারের উত্তরাঞ্চলেও গণ্ডক নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। একাধিক এলাকা জলমগ্ন। নেপালের ত্রিশূলী নদীতে প্রবল জলস্রোতের পর থেকেই বিহারের গণ্ডক ও কোসি নদীর জলস্তর নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এরই মধ্যে বন্যার জলে অপরিচিত প্রজাতির মাছ দেখা যাওয়ায় নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ওই মাছ খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিহারের প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য সম্পদ দপ্তর বন্যাকবলিত এলাকার জল থেকে মাছ ধরা, কেনা, বিক্রি বা খাওয়া থেকে সাধারণ মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।






