মেঝেতে পড়ে থাকা নুডল দিয়েই ভুজিয়া! এবার এফএসএসআইয়ের নজরে ওয়াই-ওয়াই, বাজেয়াপ্ত ৩২ হাজার কেজি পণ্য

নেপালের একমাত্র বিলিয়নেয়ার বিনোদ চৌধুরীর ব্র্যান্ড ওয়াই-ওয়াই ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবার খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার নজরে। রাজস্থানে অবস্থিত সিজি ফুডস ইন্ডিয়ার একটি কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে তদন্তকারীদের চোখ কপালে ওঠার মতো ছবি সামনে এসেছে বলে দাবি। অভিযোগ, মেঝেতে পড়ে থাকা ভাঙা নুডল কোনওরকম তাপপ্রয়োগ ছাড়াই ফের ব্যবহার করে ‘ভুজিয়া’ নামের ভারতীয় জলখাবার তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। অভিযানের পর সেখান থেকে প্রায় ৩২ হাজার কেজি মজুত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই দেশজুড়ে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ, খাবারের দোকান ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হচ্ছে। খাবারের গুণগত মান, উৎপাদন পদ্ধতি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং মেয়াদ সংক্রান্ত নিয়ম ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। পিৎজা হাট ও ডমিনোজের মতো বহুজাতিক সংস্থার প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালানো হয়েছে। এবার সেই তালিকায় নাম উঠল ওয়াই-ওয়াই নুডলসের।
রাজস্থানের সিজি ফুডস ইন্ডিয়ার কারখানায় পরিদর্শনের সময় তদন্তকারীরা মেঝে থেকে ভাঙা নুডল সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ। সেই নুডলই কোনওরকম তাপপ্রয়োগ না করে ভুজিয়া তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর বিপুল পরিমাণ মজুত ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়।
খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উৎপাদন ও খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা মান কতটা মেনে চলা হয়েছিল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
তবে শুধু ওয়াই-ওয়াই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। লে’জ চিপস এবং কুরকুরের একাধিক ফ্লেভার, ম্যাগি এবং ন’রের বিভিন্ন নুডলস ও স্যুপের প্যাকেটে তারিখ বদলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এমনকী থামস আপ ও লিমকার মতো জনপ্রিয় সফট ড্রিঙ্কও বেআইনিভাবে বিক্রির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, পণ্যগুলির তারিখ বদলে দেওয়ার কাজ মূলত বিভিন্ন গুদামে চলত। সেই গুদামগুলিতে অভিযান চালিয়েই বড়সড় অনিয়মের সন্ধান পেয়েছেন মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের আধিকারিকরা এবং নবি মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
খাদ্যপণ্যের গুণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে একের পর এক অভিযান চালানোর ফলে ইতিমধ্যেই খাদ্য ব্যবসার নানা অনিয়ম প্রকাশ্যে আসছে। নামী ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে ছোট-বড় রেস্তরাঁ—কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী, কোথাও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, আবার কোথাও প্যাকেটজাত খাদ্যের তারিখ নিয়ে কারচুপির অভিযোগ সামনে আসছে।
মহারাষ্ট্রে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কমিশনার তুকারাম মুণ্ডের নেতৃত্বে চালানো অভিযানের পরও উঠে এসেছে বিস্তর অনিয়মের ছবি। দাবি করা হয়েছে, তিন হাজারেরও বেশি হোটেল ও রেস্তরাঁয় অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৫টি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং সাড়ে ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩০ লক্ষ কেজি ভেজাল খাবার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
একদিকে সাধারণ মানুষের খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে নামী-দামি ব্র্যান্ড এবং রেস্তরাঁগুলির বিরুদ্ধেও একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—যেখানে পরিচিত ব্র্যান্ড ও বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠছে, সেখানে দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ছবিটা ঠিক কতটা উদ্বেগজনক?
খাদ্যপণ্যের গুণমান, উৎপাদনের পরিবেশ, মেয়াদ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযান সেই প্রশ্নই আরও জোরালো করে তুলেছে।






