World’s Biggest Iceberg Melted: অবশেষে অন্তিম পর্ব! গলে জল হয়ে সম্পূর্ণ বিলীন বিশ্বের বৃহত্তম হিমশৈল ‘A23a’, চিন্তায় পরিবেশবিজ্ঞানীরা

source : সংবাদ প্রতিদিন
বিগত ৪০ বছর ধরে পৃথিবীবাসীকে যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের অশনি সংকেত পাঠাচ্ছিল প্রকৃতি, অবশেষে তার অন্তিম পর্ব নেমে এল। আগামী দিনে মানবজাতিকে যে প্রকৃতির আরও কতটা কঠিন ও রুক্ষ রূপের সাক্ষী হতে হবে, এ ঘটনা তারই এক জ্যান্ত প্রমাণ। গলে জল হয়ে গেল বিশ্বের বৃহত্তম হিমশৈল (World’s Biggest Iceberg) ‘A23a’। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখন থেকে এই বিশালাকার বরফখণ্ডের কথা কেবল ভূগোল আর ইতিহাসের বইতেই পড়তে পারবে, বাস্তবে এর অস্তিত্ব চিরতরে মুছে গেল পৃথিবীর বুক থেকে।

কলকাতার চেয়ে ৪ গুণ বড় হিমশৈল মানচিত্র থেকে ভ্যানিশ!
সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গিয়েছে, আন্টার্কটিকার বরফময় জলরাশিতে ভেসে বেড়ানো বিশ্বের বৃহত্তম হিমশৈল A23a অবশেষে সম্পূর্ণ ভেঙে ও গলে সমুদ্রের জলের সাথে মিশে গিয়েছে। বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হিমশৈলটির আয়তন ছিল প্রায় ৩,৫০০ বর্গকিলোমিটার।
সহজ ভাষায় বোঝার জন্য বলা যেতে পারে, ভারতের মুম্বই, দিল্লি কিংবা গোয়ার চাইতেও বড় এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল এই হিমশৈলটি। আমাদের কলকাতা শহরের তুলনায় যার আয়তন ছিল প্রায় ৪ গুণ বেশি! এমন এক ট্রিলিয়ন টন ওজনের বিশালাকায় হিমশৈলের সম্পূর্ণরূপে গলে যাওয়া জলবায়ু পরিবর্তনের কতটা ভয়াবহ রূপ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
১৯৮৬ থেকে ২০২৬: চার দশকের এক দীর্ঘ যাত্রা
১৯৮৬ সালে আন্টার্কটিকার ফিলখনার আইস শেলফ (Filchner Ice Shelf) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল এই A23a। বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরই এটি দক্ষিণ মেরুর ওয়েডেল সাগরের সমুদ্রতলে আটকে পড়েছিল। ফলে দীর্ঘ তিন দশক এটি প্রায় স্থির অবস্থাতেই এক জায়গায় জিমিয়ে ছিল।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে সমুদ্রতলের খাঁজ থেকে মুক্ত হওয়ার পরই হিমশৈলটি জোরালো হাওয়া ও স্রোতের টানে ধীরে ধীরে উত্তর দিকে ভেসে চলা শুরু করে। আন্টার্কটিকার জলসীমা ছেড়ে দক্ষিণ আটলান্টিকের দিকে প্রায় ২,৩০০ কিলোমিটার ভেসে যায় এটি। মাঝপথে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে এটি হয়তো পেঙ্গুইন ও সিলের বাসস্থান হিসেবে পরিচিত ‘সাউথ জর্জিয়া দ্বীপে’ আঘাত হানতে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে গতিপথ পরিবর্তন করায় সেই প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছিল।
[A23a হিমশৈলের জীবনপঞ্জি]
* বিচ্ছিন্ন হওয়ার সাল: ১৯৮৬ (ফিলখনার আইস শেলফ থেকে)।
* আনুমানিক ওজন: প্রায় ১ ট্রিলিয়ন টন।
* আয়তন: প্রায় ৩,৫০০ বর্গকিলোমিটার (কলকাতার ৪ গুণ)।
* বিলুপ্তির সময়কাল: মার্চ ২০২৬-এ কমে হয় ১৭০ বর্গকিমি, এপ্রিলের পর সম্পূর্ণ অদৃশ্য।
উষ্ণ সমুদ্রের গ্রাসে টুকরো টুকরো হলো বরফের পাহাড়
উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রান্তীয় অঞ্চলের উষ্ণ সমুদ্রের জল ও বাতাসের সংস্পর্শে এসে A23a ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। প্রথমে এর থেকে বড় বড় বরফের চাঁই ভেঙে আলাদা হয়ে যায়, পরে সেই অংশগুলিও ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত হয়ে গলে যায়।
চলতি বছরের মার্চ মাসে এর মূল আয়তন কমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ১৭০ বর্গকিলোমিটারে। এরপর এপ্রিল মাসের পর থেকে নাসার (NASA) স্যাটেলাইট ইমেজে এর কোনো অংশ বা খণ্ডাংশ ধরা পড়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে এটি এখন সম্পূর্ণ জল হয়ে সাগরের সাথে মিশে গেছে।
A23a সম্পূর্ণ বিলীন হওয়ার পর বর্তমানে ‘D15a’ নামক আরেকটি বরফখণ্ড বিশ্বের বৃহত্তম ভাসমান হিমশৈলের স্বীকৃতি পেয়েছে।
এক নজরে হিমশৈল A23a-এর খতিয়ান:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও পরিসংখ্যান |
| নামকরণ | A23a (বিশ্বের বৃহত্তম হিমশৈল)। |
| উৎপত্তি স্থল | ফিলখনার আইস শেলফ, আন্টার্কটিকা। |
| সর্বোচ্চ আয়তন | প্রায় ৩,৫০০ বর্গকিলোমিটার। |
| গলনের প্রধান কারণ | দক্ষিণ আটলান্টিকের উষ্ণ জলস্রোত ও বিশ্ব উষ্ণায়ন। |
| নতুন বৃহত্তম হিমশৈল | D15a। |
A23a-এর এই গলনপ্রক্রিয়া প্রাকৃতিক নিয়মে হলেও, এর অবলুপ্তির গতি যেভাবে ত্বরান্বিত হয়েছে, তার পেছনে বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global Warming) ভূমিকা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মনে করছে বিজ্ঞানীমহল। মেরু অঞ্চলের বরফ এভাবে গলতে থাকলে সমুদ্রপৃষ্ঠের জলস্তর বৃদ্ধি পাবে, যা আগামী দিনে বহু উপকূলবর্তী শহরকে ডুবিয়ে দিতে পারে। বিশ্বের বৃহত্তম হিমশৈলের এই অন্তিম পরিণতি আসলে মানবসভ্যতার জন্য প্রকৃতির এক চরম সতর্কবার্তা।






