১ আগস্ট থেকে কলকাতার স্কুলে মিড ডে মিলের দায়িত্বে ইসকন, নিউট্রিশন বজায় রাখতে আলাদা ডিম দেবে এসএইচজি গ্রুপ

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খাবারের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং সার্বিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। ১ আগস্ট থেকে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের রান্না ও বিতরণের দায়িত্বভার সামলাবে ইসকনের বিশেষ ফুড ফাউন্ডেশন। তবে নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি পড়ুয়াদের ডায়েটে ডিম রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সাথে সুনিশ্চিত করা হচ্ছে।
কেন যুক্ত করা হলো ইসকনকে?
স্কুলগুলিতে রান্নার মান, স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিকাঠামোগত সমস্যা দূর করতে কেন্দ্রীয় রান্নাঘর (Centralized Kitchen) ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইসকন তাদের বিশ্বমানের আধুনিক রান্নাঘরের মাধ্যমে বহু রাজ্যে সাফল্য ও দক্ষতার সাথে নিখুঁতভাবে মিড ডে মিল পরিবেশন করে আসছে। কলকাতায় ইসকনের এই পদক্ষেপে খাবারের সচ্ছতা ও হাইজিন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
[মিড ডে মিলের নতুন বণ্টন কাঠামো]
* মূল নিরামিষ খাদ্য (ভাত, ডাল, সবজি/পনির): ইসকন (ISKCON)-এর সেন্ট্রাল কিচেন থেকে সরবরাহিত।
* অতিরিক্ত প্রোটিন উৎস (ডিম/বিকল্প): স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG Groups)-র মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত ও বিতরণ।
ডিম ও পুষ্টির ভারসাম্যে এসএইচজি (SHG) গ্রুপের ভূমিকা
যেহেতু ইসকন সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্য প্রস্তুত করে, তাই স্কুলের ডায়েট চার্ট অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রোটিন সুনিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।
সেই সমস্যার সমাধানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ইসকন তাদের সুষম নিরামিষ পদ সরবরাহ করবে এবং সমান্তরালভাবে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠী (Self Help Groups – SHG) বা মহিলা স্বনির্ভর দলগুলির মাধ্যমে ডিম সেদ্ধ করে তা আলাদাভাবে শিক্ষার্থীদের থালায় পরিবেশন করা হবে। এর ফলে স্বনির্ভর দলগুলির রুজি-রুটিও বজায় থাকবে এবং শিশুরাও প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে না।
এক নজরে নতুন খাবার বন্টন নির্দেশিকা:
| পরিষেবা ক্ষেত্র | দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা | কাজের বিবরণ |
| মূল রান্না (নিরামিষ পদ) | ইসকন (ISKCON) | হাইজিন বজায় রেখে ভাত, ডাল, সবজি প্রস্তুত ও স্কুলেই পৌঁছে দেওয়া। |
| ডিম সরবরাহ | মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) | ডিম সিদ্ধ করা এবং শিক্ষার্থীদের পাতে সমান অনুপাতে পরিবেশন করা। |
| তদারকি | শিক্ষা বিভাগ ও স্কুল পরিচালন সমিতি | গুণগত মান ও সময়ানুবর্তিতা পরীক্ষা করা। |
১ আগস্ট থেকে কার্যকরী হতে যাওয়া এই নতুন মডেলের ফলে কলকাতার হাজার হাজার স্কুল শিক্ষার্থী আরও পরিচ্ছন্ন ও পুষ্টিকর খাবার পাবে। একইসাথে নিরামিষ খাবার ও প্রোটিন-সমৃদ্ধ ডিমের চমৎকার ভারসাম্য তৈরি হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষক মহলেও এই পদক্ষেপ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।






