Mysterious Kalima Flags in Bangladesh: বিশ্বকাপের বাজারে বাংলাদেশে দেদার বিকোচ্ছে ‘কালেমা পতাকা’, আইএস-তালিবানের ধাঁচে তৈরি ঝান্ডা নিয়ে বাইক মিছিলে বাড়ছে উদ্বেগ!

source : সংবাদ প্রতিদিন
বিশ্বকাপ ফুটবলের জ্বরে যখন কাঁপছে গোটা দুনিয়া, তখন উপমহাদেশের চিত্রটা বেশ অদ্ভুত ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। বাংলাদেশ বা ভারত—বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে না থাকলেও এ দেশের ফুটবল প্রেমীদের উন্মাদনা বিশ্বখ্যাত। বিশেষ করে বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থন নিয়ে উন্মাদনা প্রতিবারই চরম আকার ধারণ করে। তবে চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) আবহের মধ্যেই বাংলাদেশে এক সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন ধারার দৃশ্যপট সামনে এসেছে। রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোড়ে, ফ্লাইওভারে এবং রাস্তায় উড়তে দেখা যাচ্ছে ইসলামিক একেশ্বরবাদের বাণী খচিত ‘কালেমা পতাকা’। এই পতাকার সাথে বৈশ্বিক চরমপন্থী দলগুলির ভিজ্যুয়াল ব্র্যান্ডিংয়ের মিল থাকায় এটি এখন দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমবার এই ধরনের সাদা ও কালো কাপড়ের ওপর আরবি হরফে লেখা পতাকাটি গত ১৭ জুন রাজধানী ঢাকার রাস্তায় দেখা গিয়েছিল। এরপর খুব দ্রুত নেটমাধ্যমে এর প্রচার শুরু হয় এবং একে একে মিরপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফরিদপুর, পাবনা ও দিনাজপুরে এই ঝান্ডা দৃশ্যমান হতে থাকে।
ফেসবুকে ‘আল কোরানের দারস’ এবং ‘মাসুক মিডিয়া’-র মতো বিভিন্ন ইসলামিক পেজ এবং গ্রুপ থেকে এই পতাকা বিক্রি ও এর প্রচার চালানো হচ্ছে বলে খবর। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শত শত যুবক বাইকে এই পতাকা বেঁধে বড় বড় মিছিল বের করছেন।
অনলাইনে এবং অফলাইনে এই প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অদ্ভুত দাবি:
“দেশে যদি দেদার ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো বিদেশি পতাকার জোয়ার বইতে পারে, তবে মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে ‘কালেমার পতাকা’ ওড়াতে সমস্যা কোথায়? এটি যদি চরমপন্থা বা জঙ্গিবাদ হয়, তবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকাকেও রাস্তা থেকে নামাতে হবে।”
সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক খুতবায় মুফতি হারুন ইজহারও এই পতাকার পক্ষেই সওয়াল করেছেন। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অধিকার কর্মীরা বলছেন, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের ভাবাবেগকে ব্যবহার করে একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই কাজ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অপরাধবিজ্ঞানী ড. মো. তৌহিদুল হক এবং মানবাধিকার কর্মী নূর খান সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিতর্ক কালেমা নিয়ে নয়; বিতর্ক তৈরি হয়েছে পতাকার সুনির্দিষ্ট নকশা ও তা প্রদর্শনের টাইমিং নিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আইএস (ISIS), আল-কায়েদা বা বোকো হারাম এই ধরণের কালো ও সাদা পতাকার মাধ্যমেই নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরে। তাই অবিকল সেই কায়দায় এই পতাকার ব্যবহার আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশকে একটি উগ্রপন্থী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে পারে, যা দেশের রেমিট্যান্স, শ্রমবাজার ও বৈদেশিক বাণিজ্যে মারাত্মক আঘাত হানবে।
নাগরিক সমাজ ও গোয়েন্দা মহলের একাংশের দাবি, খোদ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই অনেক জায়গায় এই ধরনের মোটরসাইকেল র্যালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা উদ্বেগের।
তবে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। পুলিশের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন:
“ইসলামের নাম নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার যে কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। যদি কেউ ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক সংকীর্ণ স্বার্থে এই পতাকা ব্যবহার করে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (DMP) কাউন্টার টেররিজম ইউনিটও পুরো বিষয়টির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।
কালেমার বাণী মুসলমানদের কাছে পরম পবিত্র। কিন্তু বিশ্বকাপের ডামাডোলের মাঝে, তালিবান বা আইএসের মতো প্রতীকের অনুকরণে তৈরি এই পতাকার গণ-বিক্ষোভ বা মিছিল সাধারণ ধর্মীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ, নাকি নতুন সরকারের (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন) সামনে শক্তি প্রদর্শনের কোনও গোপন চরমপন্থী মহড়া—তা সম্পূর্ণ খতিয়ে দেখা জরুরি। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে প্রশাসনকে অতি দ্রুত এর উৎস খুঁজে বের করতে হবে।






