PM Modi US Visit & Donald Trump India Tour: ডিসেম্বরে মার্কিন মুলুকে মোদি, আগামী বছর ভারত সফরে ট্রাম্প! শুল্ক নীতি কাটিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বে নয়া অধ্যায়

source : সংবাদ প্রতিদিন
ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গ্রাফ যে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত হতে চলেছে জি২০ রাষ্ট্রগোষ্ঠীর হাইপ্রোফাইল বার্ষিক সম্মেলন। আর সেই মহাসম্মেলনে অংশ নিতে ওয়াশিংটন সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। পাশাপাশি, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে ভারতে পা রাখতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ভারতে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor) দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই মেগা সফরের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন যে, আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জি২০ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যদিও সাউথ ব্লকের (ভারত সরকার) পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারত সফর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত গোর জানান, চলতি বছরে আমেরিকায় হাইভোল্টেজ মধ্যবর্তী নির্বাচন (US Midterm Elections) থাকার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ডিসেম্বরের দিকে ভারত সফর করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী বছরের (২০২৭) কোনও একটি সুবিধাজনক সময়ে তিনি নিশ্চিতভাবে দিল্লি সফরে আসবেন। ট্রাম্পের মনে ভারতের জন্য এবং পূর্ববর্তী সফরের জন্য একটি অত্যন্ত বিশেষ স্থান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমীকরণ যে কতটা গভীর, তা বোঝাতে গিয়ে সার্জিও গোর মিয়ামির একটি সাম্প্রতিক মজাদার ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মিয়ামির এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প হঠাৎই গোর ও তাঁর সহযোগীদের বলেন মোদিকে ফোন লাগাতে। সেই সময় ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, তখন আমেরিকায় সন্ধ্যা হলেও ভারতে ভোর ৬টা বাজছে।
তা শুনে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ট্রাম্প হাসতে হাসতে উত্তর দেন:
”উনি (মোদি) নিশ্চয়ই এতক্ষণে ঘুম থেকে উঠে পড়েছেন। উনি ঠিক আমারই মতো, খুব ভোরে ওঠেন।”
যদিও শেষ পর্যন্ত সময়ের পার্থক্যের জন্য সেই ফোনটি করা হয়নি, তবে এই ছোট ঘটনাটিই প্রমাণ করে যে ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে প্রোটোকলের বাইরে গিয়ে নিজের একজন অত্যন্ত কাছের ও বিশ্বস্ত বন্ধু বলে মনে করেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে চলতে থাকা কঠোর শুল্ক নীতি (Tariff Policy) নিয়ে টানাপোড়েন সম্প্রতি মিটে গিয়েছে। দুই দেশই পারস্পরিক বাণিজ্যের স্বার্থে নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে কূটনীতিতে।
এর আগে ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ (G7) সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ পার্শ্ববৈঠক হয়েছিল। সেই সম্মেলনের এক মধ্যাহ্নভোজে অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের সামনে ট্রাম্প হালকা মেজাজে নিজের সঙ্গে মোদির স্বভাবের তুলনা টেনে বলেছিলেন:
“প্রধানমন্ত্রী মোদি যেমন শান্ত, স্থিতধী, অত্যন্ত দক্ষ এবং কঠোর— আমি কিন্তু মোটেও তেমন নই। আপনারা ওঁর দিকেই তাকান, উনি কতটা শান্ত।”
সেই বৈঠকেই ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একরাশ আশ্বাস দিয়েছিলেন।
২০২৬ সালের শেষের দিকে মোদির মার্কিন সফর এবং ২০২৭-এর শুরুতে ট্রাম্পের ভারত সফর— এই দুই মেগা ইভেন্ট ভারত-মার্কিন অক্ষকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। হোয়াইট হাউসের মসনদে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আসার পর, এই সফরগুলি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল তথা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনও বড় সমীকরণের জন্ম দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।






